
উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স অঞ্চলের পর্যটনশিল্পে জোর দিতেই এই পদক্ষেপ
পর্যটনক্ষেত্র হিসেবে একটি উল্লেখযোগ্য নাম উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স অঞ্চল। সেই ডুয়ার্সের বন্ধ চা বাগানের আদিবাসী মেয়েরা হোম স্টে ট্যুরিজমের ওপর প্রশিক্ষণ নিল সদ্য। জলপাইগুড়ির পি ডি ওম্যানস কলেজের পর্যটনের শিক্ষিকা রুনা দাস তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। প্রশিক্ষণ নিয়ে আদিবাসী মেয়েরা এখন অনেকেই হোম স্টে ট্যুরিজমের ওপর কাজ করতে চাইছে।

ডুয়ার্সের নাগরাকাটা এলাকার জিতিক্রিতি চা বাগানের ত্রিশজন মেয়ে ওই প্রশিক্ষণ নিয়েছে। তিনমাসের প্রশিক্ষণ শেষে তারা স্বনির্ভরতার সঙ্গে কাজ করতে উৎসুক এখন। আর এঁদের শিক্ষিকা রুনা দাস এখানেই তাঁর কাজ থামিয়ে দিতে নারাজ। মেদিনীপুরের মেয়ে রুনা দীর্ঘদিন ধরে বিবাহসূত্রে শিলিগুড়িতে বসবাস করেন। তাঁর স্বামী কঙ্কন দাস শিলিগুড়ি কলেজের পর্যটনের শিক্ষক। পর্যটনের ওপর এম ফিল ডিগ্রি করেছেন রুনাও।
আরও পড়ুন
নারী পাচার রুখতে পদক্ষেপ নিচ্ছে মেয়েরাই
রুনার কথায়, উত্তরবঙ্গে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা। এর ওপর তিনি গবেষণা ও তার কাজ চালিয়ে যাবেন। বিভিন্ন চা বাগান থেকে শুরু করে আদিবাসী ও জনজাতিদের বস্তিতে তিনি ঘুরছেন। তাঁর অধীনে পড়াশুনা করে বহু ছেলেমেয়ে উত্তরবঙ্গের পর্যটনে আজ স্বনির্ভর। রুনা বলেন, পাহাড় ও ডুয়ার্সে ইকো ট্যুরিজম এবং অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমে বহু কাজ হতে পারে। তবে হোম স্টে ট্যুরিজম গ্রামে না করে বর্ধিষ্ণু শহরে হতে পারে। বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও দক্ষ কর্মীর অভাব রয়েছে উত্তরবঙ্গে। সেই জন্য দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য তিনি তাঁর বিদ্যা বিলিয়ে দিতে চান গ্রাম থেকে শহরে। তাঁর কথায়, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সংস্কৃতিকে আরও উন্নত করা দরকার, একইসঙ্গে বিভিন্ন সংস্কৃতি সংরক্ষণ করাও প্রয়োজন। সেইসব সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ করা গেলে উপকৃত হবে পর্যটনশিল্পও। সে-কারণেই উত্তরবঙ্গ নিয়ে কাজ করার এই স্বপ্ন তাঁর। এবং সেই কাজের অঙ্গ হিসাবেই বন্ধ চা বাগানের মেয়েদের পর্যটনের হোম স্টের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তিনি। আগামীতে এই রকম পরিকল্পনা নিয়ে আরও কাজ করবেন বলে জানান তিনি।
