ঝড় ফিরিয়ে দিল চারশো বছরের পুরনো পুঁথি

পুঁথিটি কি কাশীরাম দাসের লেখা? নাকি অন্য কারো? গোয়ালঘর থেকে কীভাবেই বা পাওয়া গেল পুঁথিটি?

সৌমী ঘোষ চৌধুরী 

কাশীরাম দাস যে গ্রামে বসে মহাভারতের বাংলা অনুবাদ করেছিলেন, সেখানে মিলল চারশ বছরের পুরোনো পুঁথি। কাটোয়ার সিঙ্গি গ্রামে ঝড়ে ভেঙে যায় গোয়ালঘর। তার পাশেই পুঁথি দেখতে পান গ্রামবাসীরা। সেগুলো প্রাকৃত ভাষায় লেখা। প্রাচীন এই পুঁথিতে রয়েছে সংস্কৃত ব্যাকরণ, রামায়ণ কথা, মহাভারতের বেশ কিছু অংশ, আর রয়েছে ন্যায়শাস্ত্র। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের ব্যাখ্যা রয়েছে এখানে। 

 

পাঁচ হাজার পাতার পুঁথি, তুলোট কাগজে লেখা। এর সঙ্গে ৬৯টা ব্যান্ডিল পাওয়া গেছে, সেগুলো লেখা তালপাতায়। কাটোয়ার বাচস্পতি বাড়ির আলমারিতে এখন সেগুলোর ঠাঁই হয়েছে।

একসময় কাটোয়া ছিল শিক্ষা-সংস্কৃতির পীঠস্থান। চৈতন্যের সময়ে বৈষ্ণব সাধনার স্থল না হলেও চৈতন্য পরবর্তী সময়ে চারটে টোল গড়ে উঠেছিল এখানে। কাটোয়ার সিঙ্গি গ্রামের বাচস্পতি বাড়ি ঘিরে ছিল টোল। সেই টোলে পড়তেন কাশীরাম দাসের অনুজ ভাই গদাধর দাস, এমনকি তাঁর ছেলেও। পরবর্তীকালে চৈতন্যচর্চা হত এইসব এলাকায়। প্রাচীন দূর্মূল্য পুঁথিগুলোর সঙ্গে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে রাখা কাশীরাম দাসের পুঁথির মিল পাওয়া গেছে। গ্রামবাসীরা তাই মনে করছেন এগুলো কবির লেখা পুঁথি হতে পারে অথবা তাঁর শিষ্যদের লেখা। মহাভারতের অংশ থাকায় স্থানীয়রা বলছেন, উপযুক্তভাবে সংরক্ষণ হোক।

প্রাকৃত বাংলায় লেখা পুঁথির পাঠোদ্ধারও করেছেন স্থানীয় ইতিহাসবিদরা। 

তৎকালীন পণ্ডিত বাচস্পতির টোল কালের নিয়মে গোয়ালঘরে পরিণত হয়েছে। ঝড়ে সেই গোয়ালঘর ভেঙে পড়াতেই উদ্ধার হয়েছে বহু মূল্যের এই নথি। একসময় এই টোলগুলোই হয়ে উঠেছিল গ্রন্থাগার। মহাপ্রভু চৈতন্যদেবের কল্পবৃক্ষের পঞ্চম শাখা ও বহু উপশাখার লীলাভূমি হয়ে উঠেছিল গঙ্গার তীরবর্তী কাটোয়া ও তার আশপাশের এলাকা। পুঁথি পাঠোদ্ধার করে প্রাচীন বাংলার বহু তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন ইতিহাসবিদরা।

Developed by DXDasia