৩৫ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগমে পূর্ণ এবারের গঙ্গাসাগর

প্রযুক্তিগতভাবে এই মেলা আগামী দিনে ভারতবর্ষে উল্লেখযোগ্য স্থান পাবে

গঙ্গাসাগরে রেকর্ড সংখ্যক পুণ্যার্থীর ভিড়। গত সোমবার যে ভিড় ছিল ২৭ লক্ষ, মঙ্গলবার তা-ই দাঁড়াল ৩৫ লক্ষে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মঙ্গলবারেই স্নান সেরে বাড়ি ফিরেছেন প্রায় ২৪ লক্ষ পুণ্যার্থী। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, উপচে পড়া ভিড় থাকা সত্ত্বেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রযুক্তিগতভাবে এই মেলা আগামী দিনে ভারতবর্ষে উল্লেখযোগ্য স্থান পাবে। এইবছর অনেকাংশে মেলাকে পরিবেশ বান্ধব ও প্লাস্টিকমুক্ত করা গিয়েছে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কাকদ্বীপ মহকুমার অন্তর্গত সাগরদ্বীপ, একটি দ্বীপ হলেও আকারে যথেষ্ট বড়ো। কথিত আছে সাগর রাজার নাম থেকেই এই নাম। সাগরদ্বীপ আজ পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

তবে তার সর্বভারতীয় পরিচিতি সাগর মেলার জন্য। পুণ্যকামী মানুষের সহজ সরল মেলা। এখানে দেখা যায় নানা পোশাকের মানুষের বিচিত্র সমাবেশ। নানা বৈচিত্র্য তাদের খাওয়া দাওয়া, আদবকায়দা, ভাষাতেও। প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তি তিথিতে মকর স্নান উপলক্ষে বসে এই মেলা। তার সঙ্গে চলে গঙ্গাপুজো, পিতৃতর্পণ, বৈতরণী পার প্রভৃতি ক্রিয়াকলাপ। মূলত স্নান চলে তিন দিন। সংক্রান্তির আগের দিন বাউনির স্নান, সংক্রান্তির দিন মকর স্নান এবং পয়লা মাঘ মাঘী স্নান। জনসংখ্যার দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গের সব থেকে বড়ো মেলা হল এই সাগর। তবে এবছর ভিড় রেকর্ড ছাড়াল।

কুয়াশা থাকলেও সাগরমেলার মাঠ রীতিমতো জমে উঠছে প্রতিদিন। সবকিছু উপেক্ষা করেও মানুষ স্নান সেরেছেন। পর্যাপ্ত যাত্রীশেড থাকার পরেও প্রচুর পুণ্যার্থীকে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হয়। কারণ এতটা ভিড় বাড়তে পারে তা অনুমান করতে পারেননি প্রশাসনিক কর্তারাও। অনেকে আবার সাগরতটেই মাটির হাঁড়িতে চাল, ডাল, সবজি ফুটিয়ে খেয়েছেন। স্নান সেরে ছুটে গেছেন কপিলমুনির মন্দিরে পুজো দিতে। অন্যদিকে হারিয়ে যাওয়া মানুষদের থাকা, খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। 

Developed by DXDasia