
উপকূলের মৎসজীবীদের জন্য নতুন পরিষেবা আনছে রাজ্য সরকার
লাঞ্চ হোক বা ডিনার – দিনে অন্তত একবার পাতে মাছ না থাকলে বাঙালির ভূরিভোজ খুব একটা যুতসই হয় না। অথচ যে সব মানুষ তাঁদের জীবন বাজি রেখে গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ধরে নিয়মিত আমাদের জোগান দিয়ে আসছেন, তাঁদের নিরাপত্তার কথা আমরা আম-বাঙালি কতটা ভাবি? মাঝ সমুদ্রে গিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে মৎসজীবীদের প্রাণ সংশয় হয়েছে, এর উদাহরণ রয়েছে প্রচুর। তাঁদের নিরাপদে ডাঙায় ফিরিয়ে আনার কোনো পরিকাঠামো এত দিন ছিল না। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বছরের পর বছর ধরে মৎসজীবীরা সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছেন এতদিন। তবে এখন সেই অচলাবস্থা কাটতে চলেছে। সম্প্রতি মৎসজীবীদের জন্য অত্যাধুনিক লাইফ সাপোর্ট বোট চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার।
২০১০ সালের মেরিন ফিসারিজ সেনসাস অনুযায়ী এই রাজ্যের উপকূলবর্তী ১৮৮টি গ্রামের ৭৬৯৮১টি পরিবার থেকে মৎসজীবীরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান। এঁদের মধ্যে ৫৩ হাজার পরিবার বংশপরম্পরায় এই পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। অন্যান্য দেশে মৎসজীবীরা সমুদ্রে গেলে তাঁদের জন্য লাইফ সাপোর্ট বোট সব সময়েই সক্রিয় থাকে। এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের মৎসজীবীরা যাতে লাইফ সাপোর্ট বোটের পরিষেবা পেতে পারেন, তাঁর উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকারের মৎস দপ্তর। আগামী ২৯ নভেম্বর রাজ্যের মৎস দপ্তর, সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তর সহ কয়েকটি দপ্তরের মধ্যে বৈঠক হবে। সেখানে এই বিষয় নিয়ে আলোচনার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও কাদের তত্ত্বাবধানে এই পরিষেবা চালু করা হবে তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বোট ট্রলার মালিকদের কাছেই থাকবে, তবে মৎস দপ্তরের তরফ থেকে সহায়তা প্রদান করা হতে পারে। রাজ্য সরকারের এই প্রয়াস যে মৎসজীবী পরিবারগুলিতে খুশির জোয়ার নিয়ে এসেছে, তা আর বলার অপেক্ষা আরে না। মাঝ সমুদ্রে মৎসজীবীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিভিন্ন মহলের নাগরিকরা।
আমাদের রাজ্যে মৎসজীবীরা সমুদ্র থেকে যে সমস্ত মাছ ধরে আনেন, তার বেশিরভাগই ভিন রাজ্যে পাড়ি জমায়। বিদেশেও এই সব সামুদ্রিক মাছের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয় এই কাজ থেকে। তাই, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে সামুদ্রিক মাছ এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ছবি সূত্র – গারমিন
