পৃথিবীর বৃহত্তম শায়িত বিষ্ণুমূর্তি

একটিমাত্র পাথরকে খোদাই করে মূর্তিই বা বানালেন কারা

পায়ে পায়ে নেপাল। রাজধানী শহর কাঠমান্ডু থেকে দশ কিলোমিটার দূরে শিবপুরী পর্বতমালার পাদদেশে 'বুড়া নীলকণ্ঠ'। পৃথিবীর বৃহত্তম শায়িত বিষ্ণুমূর্তি। চতুষ্কোণ জলাশয়ের মধ্যে অনন্তশয়নে রয়েছে বিষ্ণুর আঠার ফুটের একটি মূর্তি। একখন্ড বিশালাকার কালো পাথর কেটে তৈরি। সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হল এ ধরনের কালো পাথর কিন্তু নেপালের এই উপত্যকায় পাওয়া যায় না। তাহলে?

পুরাতত্ত্ববিদদের মতে রাজমহল পাহাড়ে প্রাপ্ত এই কালো পাথর 'Rajmahal schist' নামে পরিচিত। এখন প্রশ্ন, এই বিরাটাকার পাথর এখানে এল কোথা থেকে? আর এই একটিমাত্র পাথরকে খোদাই করে মূর্তিই বা বানালেন কারা?

বৃদ্ধ পূজারী জানালেন এক কিংবদন্তীর কথা। একাদশ শতাব্দী। এক চাষি চাষ করতে এসে দেখল মাটি ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। কৌতূহলবশত সে ডাকল গ্রামবাসীদের। শুরু হল খোঁড়াখুঁড়ি। আর মাটি খুঁড়তেই বের হল আজকের এই বিষ্ণুমূর্তি।

ঐতিহাসিকদের মতে, দশম শতাব্দীতে রাজা বিজয়কামদেব নেপালে নাগ ও বাসুকি পূজা শুরু করেন। তাঁর আমলে বেশ কিছু বিষ্ণুমূর্তি তৈরি হয়েছিল। এটি তার মধ্যে একটি।

অনন্তশয্যায় শায়িত বিষ্ণুর নাম 'বুড়া নীলকণ্ঠ' কেন? 'নীলকণ্ঠ' মানে তো শিব! এখানে বিষ্ণু কেন? উত্তর পাওয়া যায়নি। নভেম্বর মাসে এখানে বিরাট মেলা বসে। দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ আসেন। আসেন না কেবল রাজা। শোনা গেল নেপালের কোনো রাজাই এই 'বুড়া নীলকণ্ঠ' দর্শনে আসেননি। কারণ লোকবিশ্বাস বুড়া নীলকণ্ঠ দর্শনে রাজার মৃত্যু হবে। এমনই নানান কিংবদন্তী ও রহস্যে ঘেরা এই 'বুড়া নীলকণ্ঠ'।

Developed by DXDasia