
বনসৃজনে নতুন দিশা ছৌ নাচের দেশে
কাগজ-কলম। এই কথা আমরা শুনতে অভ্যস্ত। কিন্তু ‘কাগজ-কলম-গাছ’? অবাস্তব মনে হচ্ছে ? কিন্তু, সেটাকেই বাস্তব করে তুলেছেন পুরুলিয়ার পাড়া ব্লকের কিছু মহিলা আর কয়েকজন কন্যাশ্রী-কিশোরী। খবরের কাগজ আর রঙিন কাগজ মিশিয়ে তৈরি হয় সেই গাছ-কলমের বডি বা শরীর। ভরে দেওয়া হয় সাধারণ রিফিল। আর এই কাগজের কলমের ভিতরে ভরা থাকে কৃষ্ণচূড়া, পলাশ, শাল বা আরও নানা ধরনের গাছের বীজ। রিফিল ফুরিয়ে গেলে এই কাগজের কলম পুঁতে দিতে হবে বাগানে। চারা বেরোবে কয়েক দিনের মধ্যে। পরিবেশবান্ধব এই কলমের দাম মাত্র পাঁচ টাকা। একটি শিশুকেও পরিবেশ সচেতন করে তুলবে এই কলম। ঠিক মতো প্রচার পেলে পুরুলিয়ার এই গাছ-কলম সারা বিশ্বে স্বীকৃতি পেতে পারে। প্লাস্টিকের কলমের বিকল্পও এই ‘ইকো ফ্রেন্ডলি’ কলম।
জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ার শম্পা রক্ষিত এই বীজ-কলমের ভাবনাটা পেয়েছেন তাঁর পরিচিত কেরলের এক মহিলা লক্ষ্মী মেননের কাছ থেকে। তবে, এই দু’জনের সঙ্গে আমরা এখনও যোগাযোগ করে উঠতে পারিনি। ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই তাঁদের কথা আমরা লিখব। বর্তমানে, পুরুলিয়ার পাড়া ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে পরিবেশবান্ধব এই বীজকলম বা গাছ-কলম তৈরি করছে পুরুলিয়ার পাড়া ব্লকের স্বনির্ভর গোষ্ঠী সদস্য ও কন্যাশ্রী কিশোরীরা। শম্পা প্রথমে বাড়িতে বসে পরীক্ষমূলকভাবে এই গাছ-কলম তৈরি করে এলাকার হাটে বিক্রির জন্য দিয়েছিলেন। চোখে পড়ে যায় ব্লক প্রশাসনের। এরপরই ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে শুরু হয় স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং কন্যাশ্রী কিশোরীদের দিয়ে প্রকল্পটিকে ১০০ দিনের কাজের আওতায় এনে বিপণনের জন্য গাছ-কলম তৈরি করা। ব্লক প্রশাসনের, জাতীয় লাইভলিহুড মিশনের যে অফিসাররা এই কাজ করেছেন, তাঁদের উদ্যোগ এবং সক্রিয়তাকে কুর্নিশ না জানিয়ে উপায় নেই। তাঁরা ডেকে নিয়েছেন শম্পা রক্ষিতকেও, প্রশিক্ষক হিসেবে। রাজ্য গ্রামোন্নয়ন দপ্তরও এখন এগিয়ে এসেছে এই প্রকল্পের সহায়তায়।
গত মঙ্গলবার, ২৭ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পুরুলিয়ায় গেলে তাঁকে এই গাছ-কলম উপহার দেওয়া হয়। তিনি এই কলমের নামকরণ করেছেন, ‘কন্যাশ্রী-কলম’। তিনি সেদিনের সমস্ত প্রশাসনিক কাজ ওই কলমে করে, ফেরার আগে কলমটি মাটিতে পুঁতে দিয়ে এসেছেন। কয়েক দিনের মধ্যেই চারা বেরোবে। আমরা আশা করব, ওই গাছের ডালপালাও ছড়িয়ে পড়বে বহু দূর।
