৪২টি দেশের মোট ১৬০টি চলচ্চিত্র — কোভিডবিধি মেনে শুরু হচ্ছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব

সিনেমা হলগুলিতে ৫০ শতাংশের বেশি দর্শকের প্রবেশাধিকার থাকবে না – KIFF কর্তৃপক্ষ

রোনা আবহে কোভিডবিধি অবলম্বন করেই অনুষ্ঠিত হবে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২৭তম সংস্করণ। যা আগামী ৭ জানুয়ারি নবান্ন থেকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উৎসব চলবে আগামী ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।

এবছর চলচ্চিত্র উৎসবের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় ছিল সিনেপ্রেমীরা। এমনকি গত ২ জানুয়ারি সাংবাদিক বৈঠক ডাকা হলেও তা পিছিয়ে গিয়েছিল। শেষমেশ আজ ৪ জানুয়ারি শিশির মঞ্চে অনুষ্ঠিত হল চলচ্চিত্র উৎসবের প্রথমসারির সাংবাদিক বৈঠক। এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, তথ্য-সংস্কৃতি এবং পর্যটন দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং KIFF-এর সহ-মুখ্য উপদেষ্টা ইন্দ্রনীল সেন, পরিচালক অরিন্দম শীল, অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, প্রবীণ পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী, তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের সেক্রেটারি শান্তনু বসু এবং অন্যান্যরা।আজ সাংবাদিক বৈঠকে ইন্দ্রনীল সেন জানিয়েছেন, “৪২টি দেশের মোট ১৬০টি ছবির ২০০টি প্রদর্শন হবে এ বছর। রয়্যাল বেঙ্গল গোল্ডেন টাইগার ট্রফি, হীরালাল সেন মেমোরিয়াল ট্রফি, নেটপ্যাক অ্যাওয়ার্ড-সহ আরও নানান পুরস্কার থাকছে অন্যান্যবারের মতোই। এছাড়াও থাকছে ফিনল্যান্ডের মোট ৬টি ছবি।”পরিচালক অরিন্দম শীল বলেন, “এমন মাপের চলচ্চিত্র উৎসব সারা ভারতে বিরল। এই উৎসবের পুরস্কার মূল্যও সারা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।” তিনি আরও জানিয়েছেন, এবছর সত্যজিৎ রায় মেমোরিয়াল লেকচার দেবেন পরিচালক সুজিত সরকার। সত্যজিৎ রায়ের ২৭ জন জীবিত শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৩ জন আসবেন বলে জানা গিয়েছে। ৮ জানুয়ারি রবীন্দ্র সদনে তাঁদের সম্মাননা প্রদান করা হবে বলে জানান অরিন্দম শীল।

পরিচালক-অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “এবছর চলচ্চিত্র উৎসব বড়ো করে করার পরিকল্পনা থাকলেও উপায় নেই। তাই আমাদের সংকোচনের রাস্তাতেই ফিরে যেতে হয়েছে। কিন্তু সিনেমার গুণমানে কোনো ঘাটতি নেই। পথের পাঁচালি, নায়ক, সোনার কেল্লা, সদগতি, গুপী-বাঘা ইত্যাদি ছবি দেখানো হবে সত্যজিৎ রায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে। এছাড়াও শ্রদ্ধা জানানো হবে মিকোলাস সিয়াঞ্চোকেও।”উল্লেখ্য, এবছর চলচ্চিত্র উৎসবের থিম কান্ট্রি ফিনল্যান্ড৷ ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর উপলক্ষে বিশেষ বিভাগে প্রদর্শিত হবে নেতাজির উপর নির্মিত দুটি ছবি — পীযূষ বোসের ‘সুভাষচন্দ্র’ এবং শ্যাম বেনেগালের ‘নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস: দ্য ফরগটেন হিরো’। ‘মধুমতি’, ‘সাগিনা মাহাতো’ এবং ‘মুঘল-ই-আজম’ প্রদর্শিত হবে দিলীপ কুমারের প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ। বুদ্ধদেব দাশগুপ্তকে ট্রিবিউট জানিয়ে বড়োপর্দায় প্রদর্শিত হবে ‘উত্তরা’, ‘গৃহযুদ্ধ’ এবং ‘আনোয়ার কা আজব কিসসা’। বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের শ্রদ্ধা নিবেদন হিসাবে প্রদর্শিত হবে। জিন-পল গডার্ডের 'পিয়েরট লে ফাউ' এবং পিটার স্টিফেন এবং পিটার ব্রুকের ‘দ্য মহাভারত’ হতে চলেছে অন্যতম বড়ো আকর্ষণ। বিশেষ বিভাগে থাকছে অপর্ণা সেনের ‘দ্য রেপিস্ট’, সুমন মুখোপাধ্যায়ের ‘নজরবন্দ’, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং নাসিরুদ্দিন শাহ অভিনীত শৈবাল মিত্রের ‘আ হোলি কনস্পিরেসি’, গৌতম ঘোষের ‘সময়ের স্মৃতিমালা’। এশিয়ান NETPAC বিভাগে থাকছে ব্রাত্য বসু অভিনীত জীবনানন্দ দাশের বায়োপিক ‘ঝরাপালক’। এবছর অনেক বাঙালি স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা, তথ্যচিত্র নির্মাতা এবং স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ছবি জায়গা করে নিয়েছে। অন্যান্য দেশের সিনেমা দেখা যাবে প্রতিবারের মতোই। সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে জার্মানি, ফ্রান্স, বাইজেনটাইন, গ্রিস, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, ইজরায়েল, রাশিয়া, থাইল্যান্ড, স্পেন, ইতালি, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ইত্যাদি দেশের নানান নতুন ও পুরোনো ছবি। স্বাতীলেখা সেনগুপ্তকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রদর্শিত হবে রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘ধর্মযুদ্ধ’। এবছর অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে সত্যজিৎ রায় শতবর্ষ। ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ দেখানো হবে উদ্বোধনী ছবি হিসেবে। এছাড়াও সত্যজিত পরিচালিত নানান ছবি এবং তাঁকে নিয়ে নির্মিত নানান তথ্যচিত্র দেখানো হতে চলেছে। ট্রিবিউট জানানো হচ্ছে চিদানন্দ দাশগুপ্তকেও। অন্যান্য সভাগৃহগুলিতে থাকবে নানান সিনে-বিষয়ের উপর সেমিনার ও ওয়ার্কশপ।প্রসঙ্গত, রাজ্যের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সিনেমা হলগুলিতে ৫০ শতাংশের বেশি দর্শকের প্রবেশাধিকার নেই। মোট ১০টি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা প্রদর্শিত হবে। রাত ১০টার মধ্যে তা বন্ধ করে দেওয়ারও নির্দেশ রয়েছে। এই অবস্থায় ফিল্ম ফেস্টিভ্যালও হতে চলেছে একই নির্দেশিকা মেনেই।

ছবিঃ নিজস্ব

Developed by DXDasia