
শরৎচন্দ্রের জীবনের নানা মজাদার ঘটনা
(১)
কবিশেখর কালিদাস রায় প্রতিষ্ঠিত ‘রসচক্র’ সাহিত্য সংস্থার সাহিত্য সম্মেলন হচ্ছে। শরৎচন্দ্র সে সম্মেলনে আমন্ত্রিত হয়েছেন। তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে একসময় নবীন কবিদের উদ্দেশ্যে বললেন ‘তোমরা যারা কবিতা লেখো, তারা কবিতা লেখা ছেড়ে দাও।’
সবাই তো অবাক, শরৎচন্দ্রের মতো একজন বিখ্যাত লেখক এরকম কথা বলছেন কেন? পরক্ষণেই শরৎচন্দ্র বললেন, ‘যে বিষয়েই কবিতা লিখতে যাও না কেন, দেখবে রবিঠাকুর আগ বাড়িয়ে সব লিখে রেখেছেন। তাই আমি কবিতা লেখা ছেড়ে দিয়ে হতাশ হয়ে গল্প লেখা শুরু করলাম, নইলে আমিও শুরু করেছিলাম কবিতা লেখা দিয়েই।’
(২)
শরৎচন্দ্র যখন দেউলটি গ্রামে থাকতেন তখন সেখানে একবার ম্যালেরিয়া রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল। শরৎচন্দ্রের এক ভক্ত এসেছেন তাঁর কাছে। সেই ভক্ত শরৎচন্দ্রের কাছে গ্রামের অবস্থা কীরকম জানতে চাইলেন। শরৎচন্দ্রের পাশে তখন বসেছিলেন একজন ষাট বছরের বৃদ্ধ। তাঁকে দেখিয়ে শরৎচন্দ্র বললেন ‘অত জানি না, তবে আমার পাশে যিনি বসে আছেন তিনি এখনও গুরুজনদের ভয়ে দাওয়ায় বসে নিশ্চিন্ত মনে তামাক খেতে পারেন না। হরদমই ওঁর গুরুজনেরা এ পথে যাতায়াত করেন।’
আরও পড়ুন
প্রবন্ধ সাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(৩)
শরৎচন্দ্রকে একদিন একজন লোক বললেন ‘শরৎবাবু, রবীন্দ্রনাথের লেখা বড় দুর্বোধ্য। আপনার লেখা তবু আমরা বুঝতে পারি, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের অধিকাংশ লেখায় দাঁত ফোটাতে পারি না।’
শরৎচন্দ্র বললেন ‘ঠিক কথা বলেছেন। আমি যা লিখি তা আপনাদের জন্য আর রবীন্দ্রনাথ যা লেখেন তা আমাদের জন্য। এইজন্যই তফাৎ।’
(৪)
রবীন্দ্রনাথ শরৎচন্দ্রকে একদিন বললেন ‘তোমার জীবন সম্বন্ধে লোকের বড় কৌতূহল, আমার জীবনস্মৃতির মতন তোমার জীবনের কথা লেখো শরৎ।’
শরৎচন্দ্র বললেন ‘না না, তা লেখা যায় না। আমার জীবন তো ভালো নয়, আগে বুঝতে পারিনি এত বড় হব, তবে না হয় বুঝে সমঝে ভালো হয়ে চলতাম।’
(শান্তা শ্রীমানী লিখিত ‘মনীষীদের রসিকতা’ বই থেকে)
