কৌশিকী অমাবস্যায় জনজোয়ার তারাপীঠে

তিন লক্ষ পূণ্যার্থীর সমাগম তারাপীঠে

কৌশিকী অমাবস্যায় জনজোয়ার তারাপীঠে।পুলিসের হিসেব, এবার কৌশিকী অমাবস্যায় ৩ লক্ষের বেশি পুণ্যার্থীর সমাগম হয়েছে তারাপীঠে। পানীয় জলের সঙ্কট মেটাতে তারাপীঠ–রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ (‌টিআরডিএ)–এর‌ পক্ষ থেকে পুণ্যার্থীদের মধ্যে দেড় লক্ষ জলের পাউচ বিলি করা হয়েছে বলে জানালেন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা রামপুরহাটের বিধায়ক ও মন্ত্রী আশিস ব্যানার্জি। ৩০টি মোবাইল শৌচালয়ের ব্যবস্থাও করেছে টিআরডিএ।

শ্মশান জুড়ে দাউদাউ করে জ্বলছে যজ্ঞের আগুন। তার চারপাশে গোল করে বসে মন্ত্রোচ্চারণ করছে সাধু–সন্ত আর তান্ত্রিকেরা। রবিবার রাত ১টা ‌৫২ মিনিট থেকে কৌশিকী অমাবস্যার তিথি শুরু হলেও সোমবার রাতেই তারাপীঠ মন্দিরে হল অমাবস্যার বিশেষ নিশিপুজো। তাই এদিনই ভক্তদের পুজো দেওয়ার ভিড়ও বেশি ছিল।

বন্যায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উত্তরবঙ্গ, অসম ও বিহারের বিস্তীর্ণ অংশের পুণ্যার্থীরা এবার তারাপীঠে আসতে পারেননি। এইসব ভক্তের জন্য ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ, কম্পিউটার প্রভৃতির মাধ্যমে এবার হাইটেক পদ্ধতিতে পুজোর ব্যবস্থা করেছে মন্দির কমিটি। দক্ষিণা দেওয়া হয়েছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা পেটিএম ইত্যাদি ডিজিটাল পদ্ধতিতে। পুজোর ফুল পাঠানো হবে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে। লোক-বিশ্বাস, এই কৌশিকী অমাবস্যার রাতে তারাপীঠ মহাশ্মশানের শ্বেতশিমূল গাছের তলায় সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন সাধক বামাক্ষ্যাপা। আরও একটি কিংবদন্তি, মা দুর্গার দেহের বাইরের অংশ থেকে সৃষ্ট দেবী কৌশিকী এই তিথিতেই শুম্ভ–নিশুম্ভ অসুরদের এখানে বধ করেছিলেন। তারাপীঠ মন্দির ও শ্মশানের পাশ দিয়ে বয়ে–যাওয়া দ্বারকা নদে এই তিথিতে স্নান করলে কুম্ভস্নানের সমান পুণ্য হয় বলে মানুষের বিশ্বাস।

Developed by DXDasia