
সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়
সুপ্রিম কোর্ট একটি নজিরবিহীন ঘোষণা করেছেন সম্প্রতি। আর সেই ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই ফের বিতর্ক দানা বেঁধে উঠছে। সুপ্রিম কোর্টের রায় যাতে আরো বেশি সংখ্যক সাধারণ দেশবাসীর কাছে পৌঁছতে পারে, তার জন্য ৭টি আঞ্চলিক ভাষায় প্রকাশিত হবে সেই রায়। আপাত অর্থে সাধু উদ্যোগ। কিন্তু বিতর্ক জমাট বেঁধেছে ওই ৭টি আঞ্চলিক ভাষার নাম ঘোষণার পর। হিন্দি ছাড়াও এই তালিকায় আছে তামিল, তেলেগু, কন্নড়, মারাঠি, ওড়িয়া এবং অহমিয়া ভাষা। অথচ, বাংলার নাম নেই। অবাক করে দেওয়ার মতোই ঘটনা।
স্বাভাবিকভাবেই বাংলার বিরুদ্ধে ফের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে সোচ্চার হয়েছেন বাংলার সুশীল সমাজের একাংশ। ২০১১-র আদমসুমারি অনুযায়ী, হিন্দির পরেই ভারতে সবচাইতে বেশি মানুষ কথা বলেন বাংলায়। তা সত্ত্বেও, এই রায়ে বাংলা কেন বাদ পড়ল তা বুঝতে পারছেন না ওয়াকিবহাল মহল।
বাংলাকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে মেইল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলার সুশীল সমাজ। একটি খসড়া বয়ানও তৈরি করা হয়েছে মেইলের। এই বয়ানের সঙ্গে সঙ্গে সহমত হলে যে-কেউ নিজের নাম-সহ সুপ্রিম কোর্টের মেইল অ্যাড্রেসে পাঠাতে পারেন মেইল। এই মেইলের বয়ানে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সদুদ্দেশ্যকে সমর্থন জানিয়েই বাংলাভাষার তালিকাভুক্ত না হওয়া নিয়ে বিরোধিতা ব্যক্ত করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মানুষের মাতৃভাষা হওয়া ছাড়াও বাংলাই প্রথম দুটি অঙ্গরাজ্যের প্রধান ভাষার স্বীকৃতি পেয়েছিল (পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা)। বাংলাদেশের মতো একটি স্বধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষাও বাংলা। গোটা বিশ্বে সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত ভাষার তালিকাতেও বাংলা ষষ্ঠ স্থানে। হিন্দি বাদে এই তালিকাভুক্ত অন্যান্য ৬টি ভাষার এই ব্যপ্তি নেই। সেক্ষেত্রে বাংলার এই তালিকা থেকে বাদ পড়া দুর্ভাগ্যজনক সিদ্ধান্ত। ফলে, এই তালিকাকে পুনরায় সংশোধন করে বাংলাকে এর অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে মেইলের বয়ানে।
সুপ্রিম কোর্টে মেইল পাঠানোর পাশাপাশি সোশাল মিডিয়াতেও চলছে প্রচার। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন অনেকেই। প্রয়োজনে এই নিয়ে আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার কথাও ভাবছেন বাংলার সুশীল সমাজের একাংশ।
