টেবিলে পা তুলে জুতোটা ন্যাপকিন দিয়ে মুছে নিলেন সুভাষ

সুভাষচন্দ্র বসু-র জীবনের নানা জানা-অজানা ঘটনা

(১)
একবার একটা হোটেলে খেতে গেছেন সুভাষচন্দ্র। হোটেলে খাবারের বিল যখন এল তখন দেখলেন বিলে খাবারের সঙ্গে ন্যাপকিনের দামও ধরেছে। তিনি তখন হোটেলের বয়কে বললেন ‘ইওরোপের এত হোটেলে খেয়েছি, কই, কোথাও তো কেউ ন্যাপকিনের বিল করে না, তাছাড়া আমি তো ন্যাপকিন ব্যবহারও করিনি।’ বয়টি জানাল তাদের হোটেলের এটাই রীতি। কথাটি শুনে সুভাষচন্দ্র বললেন, ‘তাহলে এটির ব্যবহারও হোক।’ বলে তিনি টেবিলে পা তুলে জুতোটা ন্যাপকিন দিয়ে মুছে নিলেন।

(২)
সেবার লন্ডনের এক হোটেলে কয়েকজন বন্ধুর সাথে সুভাষচন্দ্র খাচ্ছিলেন। একটি বন্ধু বাড়ি থেকে ডিম সেদ্ধ করে নিয়ে গিয়েছিল, ডিমের খোলা ছাড়িয়ে তিনি যখন ডিমটি খাচ্ছিলেন তখন হোটেলের বাটলার সেটা দেখতে পায় এবং বিলে ডিমসেদ্ধর দাম ধরে দেয়। বিল দেখে সেই বন্ধুটি তো রেগেই অস্থির। রাগের চোটে বন্ধুটি বলে উঠল ‘These are my own eggs, how could you make bill for this?’ সঙ্গে সঙ্গে সুভাষচন্দ্র হাসতে হাসতে বললেন ‘How could you have your own eggs?’ তাঁর এই ঠাট্টায় সকলে হেসে উঠেছিল।

(৩)
সুভাষচন্দ্র যখন ফরোয়ার্ড দলের নেতা তখন একদিন কলকাতার একজনের বাড়িতে নিমন্ত্রণে যাবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। নিমন্ত্রণের দিন সুভাষচন্দ্র এখনকার আবদুল হামিদ স্ট্রিটের ফরওয়ার্ড অফিসে এসে কিরণ শংকর রায় আর সত্যরঞ্জন বক্সীকে বললেন, ‘আমি বজবজে একটা মিটিং-এ যাচ্ছি। ফিরে এসে নেমন্তন্ন বাড়িতে যাব। তাদের কথা দিয়েছি।’ সুভাষ ফিরলেন একেবারে গভীর রাতে। কথা দিয়েছেন তাই নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে সেই গভীর রাতেই চললেন নিমন্ত্রণবাড়ির উদ্দেশ্যে। বাড়ির সামনে এসে শুনলেন সদর দরজা, এমনকি বাড়ির জানলাগুলোও সব বন্ধ। চারদিক শুনশান। সুভাষচন্দ্র দরজার কড়া নাড়তে লেগে গেলেন। বাড়ির ভিতর থেকে সাড়া এল ‘কে এত রাতে?’ উত্তর এল ‘আমি সুভাষচন্দ্র। আপনারা আমায় নিমন্ত্রণ করেছিলেন, আমি কথা দিয়েছিলাম আসব বলে, তাই রাত হলেও এসেছি।’

দরজা খুলে সবাই হৈ হৈ করে ছুটে এল। বাড়ির কর্তা বললেন ‘এতো রাতে-’ সুভাষচন্দ্র বললেন ‘তাতে কী হয়েছে, ব্যস্ততার কোনও কারণ নেই। খাবার দাবার ফুরিয়ে গেলেও কষামাংস আর ময়দা ঘি তো আছে। কষামাংস আর লুচি ভেজে দিন, আমরা তাই-ই খাব।’ রান্নার তোড়জোড় শুরু হয়ে গেল। খাওয়া শেষ হতে রাত প্রায় ভোর হয়ে গেল, তারপর সুভাষচন্দ্র গল্পগুজব শুরু করে দিলেন। ওঠবার আর নাম করেন না। সঙ্গীরা বললেন ‘এবার বাড়ি ফেরা যাক।’ সুভাষচন্দ্র বললেন ‘বসুন না একটু, ভোরের চা-টা খেয়েই না হয় এখান থেকে বেরোব।’ 

(ঋণ – শান্তা শ্রীমানী রচিত ‘মনীষীদের রসিকতা’ গ্রন্থ);

Developed by DXDasia