
রাজ্যের নানা প্রান্তে ত্রাণ সংগ্রহ কলেজ পড়ুয়াদের
‘ফণী’-তে বিধ্বস্ত ওড়িশাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে এই রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা। কোনো সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নয়, নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে চেষ্টা চলছে ত্রাণ সংগ্রহের। সেই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিয়ে আসা হবে ওড়িশায়। এর আগে নেপালের ভূমিকম্পের সময় এই ছাত্রছাত্রীরা মিলেই তিনবার ত্রাণসামগ্রী, ওষুধ পোঁছে দিয়ে এসেছে নেপালে। পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলের ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময়ও ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তরুণী-তরুণরা। ‘ফণী’ আছড়ে পড়ার খবর শুনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আর ইডেন হিন্দু হোস্টেলের ছাত্রছাত্রীরা নিরাশ্রয় ও বিপদে পড়া মানুষদের আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছিল। নির্দ্বিধায় নিজেদের বাড়িতে বিপদগ্রস্তদের আশ্রয় দেওয়ার কথা বলেছিল অনেকে।
‘ফণী’ পশ্চিমবাংলায় সেভাবে ছোবল মারতে পারেনি। কিন্তু, তার দাপটে ছারখার হয়ে গেছে ওড়িশা। মৃত্যু হয়েছে সরকারি হিসেবেই ১২ জনের। বহু অঞ্চলে খাবার, পানীয় জল নেই। সেই বিধ্বস্ত ওড়িশার জন্যই ত্রাণ সংগ্রহে নামছে বাংলার ছাত্রছাত্রীরা। ‘ফণী-বিধ্বস্ত ওড়িশার পাশে বাংলার ছাত্রছাত্রী’ শিরোনামে ফেসবুক ইভেন্ট খোলা হয়েছে। ত্রাণ সংগ্রহ চলছে পাঁচলা, বনগাঁ ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল, শ্রীরামপুর, বাঁকুড়া, কলকাতা-সহ নানা জায়গায়। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও নেমেছে ত্রাণ-সংগ্রহে। চাইলে যে কেউ যোগ দিতে পারেন এই ত্রাণ সংগ্রহে, জানাচ্ছে তারা। ওড়িশার পাশাপাশি অবশ্য পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও খোঁজ চালাচ্ছে তারা। প্রয়োজনে সেখানেও তারা পৌঁছে যাবে বলে জানাচ্ছে পড়ুয়ারা।
‘স্বার্থপর’, ‘আত্মপ্রেমী’ নতুন প্রজন্মের এই মানবিক মুখ নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে সন্দেহ নেই।
