স্কুলস্তরেই চিকিৎসার পাঠ পাচ্ছে এ রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা

উচ্চমাধ্যমিক স্তরে চালু হয়ে গেছে ঐচ্ছিক ‘হেলথ কেয়ার’-এর পাঠ্যক্রম

বাড়ি থেকে হাসপাতাল অনেক দূর। নিদেনপক্ষে, কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রও নেই মাইল খানেকের মধ্যে। ধুম জ্বরের মধ্যে রক্ত-পরীক্ষার প্রয়োজন হলেও যেতে হয় অনেকটা দূর। ডাক্তার ইঞ্জেকশন লিখে দিয়েছেন। তা নিতেও ছুটতে হয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। তাছাড়া, অসুস্থ হলে নিত্যদিনের নানা পরিচর্যার ক্ষেত্রে অসংখ্য সমস্যা, না-জানা, জটিলতা তো আছেই। সেইসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষেই এই রাজ্যের নানা স্কুলে ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে চালু হয়ে গেছে ‘হেলথ কেয়ার’-এর পাঠ। উদ্দেশ্য, অসুখ ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত নানা বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষিত করে তোলা।

কেবলমাত্র গ্রাম বা মফস্বলেই নয়, শহরেও অসুখ-সংক্রান্ত সমস্যা জটিল হচ্ছে দিন-দিন। ঘরে ঘরে ব্লাড প্রেশার, ব্লাড সুগার, অসুস্থ বৃদ্ধ মানুষ। রক্ত সংগ্রহ, ব্লাড প্রেশার মাপা, সুগার মাপা, বৃদ্ধ মানুষদের পরিচর্যা, নানা অসুখের ক্ষেত্রে প্যাথলজিকাল পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা-শুশ্রূষার ব্যবস্থা করা— এইসব ক্ষেত্রে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো মানুষের খোঁজ কে না করে! যদি, বাড়িতেই থাকে এমন মানুষ! বয়সে ছোটো হয়তো, কিন্তু ইঞ্জেকশন দেওয়া থেকে শুরু করে, প্রয়োজনীয় পরিচর্যা-শুশ্রূষায় যারা রীতিমতো দক্ষ। তাহলে, অসুখের মধ্যেও অনেকখানি আশ্বস্ত হওইয়া যাবে নিশ্চিত। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের ‘হেলথ কেয়ার’-এর নতুন পাঠ্যক্রম সেই আশ্বাসই দিচ্ছে।

এই বছর থেকেই একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে পূর্ণাঙ্গ বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ‘হেলথ কেয়ার’। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের অনুমোদনের পর এই বিষয়ের পাঠ্যক্রম তৈরি থেকে শুরু করে স্কুলে-স্কুলে শিক্ষক পাঠানোর দায়িত্ব নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দপ্তর। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি মহুয়া দাস জানিয়েছেন, স্কুলের চিরাচরিত পড়াশোনার পাশাপাশি স্কিল ডেভেলপমেন্ট করতে সাহায্য করে এমন বিষয়কে পাঠ্যক্রমের অন্তভুর্ক্ত করার কথা বলেছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। ‘হেলথ কেয়ার’-এর মতো বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করে ছাত্রছাত্রীরা চিকিৎসা-সংক্রান্ত নানা প্রয়োজনীয় বিষয়ে যেমন প্রশিক্ষিত হতে পারছে, তেমনই ভবিষ্যতে নানা কর্মসংস্থানের সুযোগও খুলে যাচ্ছে তাদের সামনে। তারা চাইলে পরে এই বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগও মিলবে।

‘হেলথ কেয়ার’-এর পাঠ্যক্রমে বিভিন্ন রোগের কারণ, উপসর্গ বিচার, পথ্য, পরিচর্যা এবং তার চিকিৎসার নানা পদ্ধতি সম্পর্কেও বিস্তারে বলা রয়েছে। ফলে, নানা প্রচলিত অসুখ ও তার চিকিৎসা-পদ্ধতি সম্পর্কে একটা সম্যক ধারণা তৈরি হয়ে যাচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের। তাছাড়া, ব্লাড প্রেশার মাপা, শিশুর পরিচর্যা, বৃদ্ধ মানুষদের শুশ্রূষা, অন্তঃসত্ত্বার পরিচর্যা, প্যাথলজিকাল নানা রিপোর্ট দেখে সেইমতো শুশ্রূষা, ঋতুচক্রকালীন হাইজিন, গর্ভনিরোধকের ব্যবহার, রক্ত সংগ্রহ, ব্লাড সুগার পরীক্ষার মতো নানা বিষয়ে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ পাবে ছাত্রছাত্রীরা। স্টেথো, নেবুলাইজার-সহ নানা যন্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণও মিলবে ক্লাসরুমেই।

ঘরে ঘরে ডাক্তার নাই থাক, এমন প্রশিক্ষিত ছাত্রছাত্রীরা থাকলেও অনেকখানি সুরাহা। কী বলেন?

Developed by DXDasia