
এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগ
লকডাউনে স্কুল বন্ধ তো কী হয়েছে! বাড়ি বসেই নানান সৃষ্টিশীল কাজে মেতে উঠতে পারে ছাত্রছাত্রীরা। এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে ক্যালকাটা ইন্টারন্যাশানাল স্কুলের কিছু শিক্ষার্থী হাতেকলমে কয়েকজন দুঃস্থ পড়ুয়াকে বুক ফোল্ডিং শিখিয়ে এমনই নজির তৈরি করল।
‘চাইল্ড রাইটস অ্যান্ড ইউ’ বা ‘ক্রাই’ নামের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গোটা ভারতেই শিশুদের জন্য নানান কর্মসূচি নিয়ে থাকে। তাঁদের ‘শেয়ার করো না’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে সোমবার অনলাইনে এমনই এক মজাদার ক্লাসের আয়োজন করা হয়েছিল। জুম অ্যাপের মাধ্যমে রাজাবাজারের পিছিয়ে পড়া পরিবারের ৩ জন পড়ুয়াকে বুক ফোল্ডিং শেখাল ক্যালকাটা ইন্টারন্যাশানাল স্কুলের ৩ জন শিক্ষার্থী। সঙ্গে ছিলেন দু’জন স্বেচ্ছাসেবক। রাজাবাজারের ওই ৩ জন পড়ুয়া আবার একইভাবে প্রতিবেশী দুঃস্থ শিশুদের মজার হস্তশিল্পটি শেখাবে। লকডাউন চলাকালীন এভাবে সৃজনশীল কাজে মাতলে সতেজ থাকবে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য।
ক্যালকাটা ইন্টারন্যাশানাল স্কুলের ছাত্র পৃথ্বীরাজ ঝুনঝুনওয়ালা জানাল, “আমার কাছে এই ক্লাস এক অনন্য অভিজ্ঞতা। বইকে এমন সব নতুন পদ্ধতিতে ব্যবহার করা যায়, যা কেউ ভাবতেই পারবে না। পড়ানোর এই অনুভূতি দুর্দান্ত”। সেই স্কুলেরই শিক্ষিকা তানিয়া ঘোষ বললেন, “শিশুদের সঙ্গে কাজ করে সব সময়েই আনন্দ পাই। আমি চেয়েছিলাম, আমার স্কুলের পড়ুয়ারা উপলব্ধি করুক, কোনো বস্তুগত লাভ ছাড়াই কীভাবে অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে হয়। ক্রাই-এর সঙ্গে আমরা ভবিষ্যতে এমন কাজ আরও করতে চাই”।
রাজাবাজারের পর ক্রাই এরকম অনলাইন ক্লাসের আয়োজন করতে চলেছে তপসিয়া, ধাপা, বালিগঞ্জ এবং ঢাকুরিয়ার বস্তি অঞ্চলে। পরের ক্লাসগুলিতে ছবি আঁকা, গান এবং আরও বেশ কিছু হস্তশিল্প শেখানো হবে।
