কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাংকের সঙ্গে এবার বিমা শিল্পেও ধর্মঘটের ডাক

বুধবার ধর্মঘট ডেকেছে সাধারণ বিমা শিল্প

আজ, সোমবার এবং আগামিকাল, মঙ্গলবার ব্যাংক ইউনিয়নগুলির ডাকে দেশ জুড়ে চলবে ব্যাংক ধর্মঘট। বুধবার ধর্মঘট ডেকেছে সাধারণ বিমা শিল্প। আর বৃহস্পতিবার ধর্মঘটে নেমে সরকারি নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবেন জীবন বিমা নিগমের (এলআইসি) কর্মী এবং অফিসারেরা। রাজকোষে টাকা ভরতে বিলগ্নিকরণকে বহু দিন ধরেই পাখির চোখ করছে মোদী সরকার। এ বার বাজেটে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সংখ্যা আরও কমানোর পাশাপাশি দু’টি ব্যাংক এবং একটি বিমা সংস্থাকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেছে তারা। দ্রুত এলআইসি-তে তাদের হাতে থাকা শেয়ারের একাংশও বাজারে বিক্রি করা হবে। তার পরেই দেশ জুড়ে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন এই সব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। বেসরকারি সংস্থার হাতে জাতীয় সম্পত্তি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে না-সরলে সরকারের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলনের ধাঁচে বৃহত্তর আন্দোলন চালানোর বার্তাও দিচ্ছেন।

শুধু নিজেদের চাকরির নিরাপত্তার স্বার্থে বিলগ্নিকরণের বিরোধিতা করছেন না ধর্মঘটী ইউনিয়নগুলো। তাঁদের মতে, এতে স্বার্থহানি হবে গ্রাহকদেরও। ব্যাংকে গ্রাহকদের ৫ লক্ষ টাকা আমানতে বিমার সুবিধা মিলবে বলছে কেন্দ্র, অর্থাৎ ব্যাংকে তালা ঝুললে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পাবেন গ্রাহক। কিন্তু যাঁদের অনেক বেশি টাকা জমা আছে? বিশেষত প্রবীণ নাগরিকদের কী হবে? মানুষ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে টাকা রাখেন সরকারের গ্যারান্টি আছে, এই ভরসায়। বেসরকারিকরণ হলে সেই গ্যারান্টি থাকবে না। সিটুর সাধারণ সম্পাদক তপন সেন এবং ইউটিইউসি-র সাধারণ সম্পাদক অশোক ঘোষ জানিয়েছেন, “এই চার দিনের ধর্মঘটে কেন্দ্রের টনক না-নড়লে আরও বড় মাপের আন্দোলনে নামব। আর্থিক ক্ষেত্রের সকলে একজোট হয়ে যৌথ কর্মসূচি নেবে।’’ তবে শুধু আর্থিক ক্ষেত্র নয়, বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিলগ্নিকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে এককাট্টা ইউনিয়নগুলি। ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ ইতিমধ্যেই ব্যাংক ও বিমা শিল্পে ধর্মঘটের সমর্থনে পথে নামার কথা জানিয়েছে।

Developed by DXDasia