নজিরবিহীন ঘটনা: সার ছাড়াই উর্বরা হয়ে উঠছে মাটি

জৈব কৃষিখামার থেকে প্রাকৃতিক কৃষিখামারে উত্তরণ

এ এক আশ্চর্য রূপান্তরের গল্প। একটা মাটি জীবন্ত হয়ে উঠছে ক্রমশ। কোনো সার ছাড়াই বেড়ে যাচ্ছে তার উৎপাদনের ক্ষমতা। বেশি ফসল পেতে গেলে যে সার দিতেই হয়, সেই মিথকে ভেঙে দিচ্ছে এই গবেষণা। পশ্চিমবঙ্গে তো বটেই, গোটা ভারতে এমন নজির নেই। ঘটনাস্থল ফুলিয়ার কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

কী ঠিক ঘটেছে আসলে? পশ্চিমবঙ্গে একমাত্র সরকারি জৈব কৃষিখামার পরিণত হয়েছে প্রাকৃতিক কৃষিখামারে। জৈব কৃষি খামার মানে যেখানে চাষের সময় কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহৃত হয় না। শুধুই জৈব সার ব্যবহৃত হয়। আর, প্রাকৃতিক কৃষি খামারে জৈব সারেরও প্রয়োজন পড়ে না। প্রকৃতি নিজেই উর্বরা হয়ে মাটিকে ভরিয়ে তোলে ফসলে।

এই রূপান্তরের আড়ালে প্রধান মানুষটি হলেন কৃষিবিজ্ঞানী অনুপম পাল। ঠিক ১০ বছর আগে তিনি ঠিক করলেন, জমিতে জৈব সার দেওয়াও বন্ধ করে কেবলমাত্র ভাসমান অ্যাজোলা দেওয়া হবে। প্রাকৃতিকভাবেও যে জমির উর্বরতা বাড়ানো সম্ভব, সেটাই দেখাতে চাইছিলেন তিনি। ফলও মিলল হাতেনাতে। মাটিতে জীবাণুর সংখ্যা বেড়ে গেল, জৈব পদার্থের সংখ্যাও বেড়ে গেল। গাছের বৃদ্ধিও হতে লাগল তীব্র হারে। এরই মধ্যে, ফসলচক্রের মধ্যেই বাদামের মতো ফসলের চাষও করা হত ধানচাষের আগে। তাতেও মাটিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বাড়ত। উর্বরতর হত মাটি।

১০ বছর পর দেখা যাচ্ছে মাটি ফিরে পেয়েছে তার নিজস্ব উর্বরা শক্তি। কোনো সারের সাহায্য ছাড়াই সে এখন গর্ভবতী হতে পারে বারবার। ফলে, ভাসমান অ্যাজোলা দেওয়াও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাসায়নিক সারের বিষ থেকে মুক্ত তো বটেই, জৈব সারের স্পর্শও নেই আর এই জমিতে জন্ম নেওয়া ধানের গর্ভে। চাষের খরচও কমেছে অবশ্যই।

জৈব কৃষিখামারকে প্রাকৃতিক কৃষিখামারে উত্তরিত করার এহেন নজির গোটা ভারতবর্ষেই নেই।

Developed by DXDasia