লোকশিল্পীদের উন্নতিকল্পে রাজ্য সরকারের লোকপ্রসার প্রকল্প

শিল্পীরা প্রতি মাসে ১০০০ টাকা করে ভাতা পান

রুন, আপনি বেড়াতে গেছেন বীরভূমে, বাউলের দেশে। সেখানে বাউল গানের সুর আপনার মনে যে দোলা লাগাবে, সে কথা বলাই বাহুল্য। বা পুরুলিয়ার ধামসা মাদল বা ছৌয়ের ছন্দে শরীর দুলে ওঠা। শুধু বাউল বা ছৌ নয়, পশ্চিম বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে এইরকম নানা লোক-আঙ্গিক যা একান্তই বাংলার নিজস্ব সম্পদ। যেমন, উত্তরবঙ্গের ভাওয়াইয়া, মালদার গম্ভীরা, পুরুলিয়ার নাটুয়া ইত্যাদি। কিন্তু কেমন থাকেন এই লোক আঙ্গিকের শিল্পীরা? দৈনন্দিন রুটি-রুজি সামলে তারা কি পারছেন শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে? এই প্রশ্ন থেকেই ২০১৪ সালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয় লোকপ্রসার প্রকল্প (Lokprasar Prakalpa), যার উদ্দেশ্য লোকসংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত শিল্পীদের স্বীকৃতি প্রদান ও আর্থিক দৃঢ়তা প্রদান, যাতে তাঁরা শিল্পচর্চাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।

এই প্রকল্পের ফলে কীভাবে উপকৃত হচ্ছেন শিল্পীরা? এই বিষয়ে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের এক আধিকারিক বঙ্গদর্শন.কম-কে জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত প্রবীণ শিল্পীরা অর্থাৎ ষাটোর্ধ্ব শিল্পীরা প্রতিমাসে ১০০০ টাকা করে ভাতা পান, এছাড়াও প্রকল্পের আওতাভুক্ত ১৮-৬০ বছর পর্যন্ত শিল্পীরা প্রতি মাসে ১০০০ টাকা করে বহাল ভাতা পান যা সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে যায়। শুধু তাই নয়, বহাল ভাতা প্রাপ্ত শিল্পীরা দিনপ্রতি ১০০০ টাকা হারে সরকারি অন্যান্য জনমুখী প্রকল্পের (যেমন কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, খাদ্যসাথী, সবুজসাথী ইত্যাদি) প্রচারমূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। তিনি জানান, রাজ্য জুড়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ৯৪ হাজার শিল্পী এই প্রকল্পের আর্থিক এবং সামাজিক সুফল লাভ করছেন।

দপ্তর সূত্রে আরও জানা যায় যে, শুধু রাজ্যে নয়, দেশের সীমানা পার করে বিদেশের মাটিতেও সমাদৃত হয়েছে বাংলার শিল্প। গত বছর পুজোতে বাংলার ঢাক নিয়ে সুদূর সুইজারল্যান্ডে পৌঁছে গিয়েছিলেন মহিলা ঢাকিরা। এছাড়াও দেশের মধ্যেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে, দেশ বিদেশের সম্মাননীয় অতিথিদের আপ্যায়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পশ্চিমবাংলার নিজস্ব শিল্পকে তুলে ধরতে পারেন মাটির কাছাকাছি থাকা ভূমিপুত্র-ভূমিকন্যারা। এছাড়াও শহর এবং শহরতলির বিভিন্ন পুজো কমিটির উদ্যোক্তারাও উপযুক্ত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে লোক আঙ্গিকের অনুষ্ঠান করার ক্ষেত্রে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। আর নিয়মিত অনুষ্ঠান করার ফলে শিল্পীদের দক্ষতা তথা সামগ্রিক পরিবেশনার মানও আরও অনেক সুন্দর হয়েছে।

যে কোনো জাতিরই নিজস্ব কৃষ্টি, সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার মাধ্যমে সেই জাতি এগিয়ে চলে ভবিষ্যতের দিকে। তবে সেই আঙ্গিককে বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সঙ্গতি বাস্তবিকই প্রয়োজন। আশা করা যায়, লোকপ্রসার প্রকল্প এবং এর মাধ্যমে অন্যান্য জনমুখী প্রকল্পের প্রচার মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। পাশাপাশি বিশ্বের প্রতিটি কোণায় পৌঁছে যাবে বাংলার উৎসবের রং।
 

Developed by DXDasia