
দিনযাপনে বাছাই চার
শক্তিগড়ের ল্যাংচাকে জিআই স্বীকৃতি দিতে উদ্যোগ নিল রাজ্য
বর্ধমান জেলার মিষ্টি জগতখ্যাত। একদিকে যেমন সীতাভোগ-মিহিদানা, অন্যদিকে তেমনই শক্তিগড়ের ল্যাংচা। হাজার মিষ্টির ভিড়েও এই মিষ্টিগুলো আলাদা জায়গা করে নিয়েছে পাকাপাকিভাবে। কিন্তু সীতাভোগ-মিহিদানা জিআই স্বীকৃতি পেলেও, শক্তিগড়ের ল্যাংচা এখনও সেই স্বীকৃতি পায়নি। এবার সেই উদ্যোগই নিল রাজ্য সরকার। জিআই এবং পেটেন্ট-এর বিষয় নিয়ে বর্ধমান শহরের বামচাঁদাইপুরের মিষ্টিহাবে রাজ্যের ‘পেটেন্ট ইনফরমেশন সেন্টারে’র পক্ষ থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। শক্তিগড়ে ২ নম্বর জাতীয় সড়কের দু’ধারে রয়েছে অসংখ্য ল্যাংচার দোকান। দূর দূরান্তের মানুষ এখানে আসেন শুধুমাত্র ল্যাংচা খাওয়া এবং বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এদিন শক্তিগড়ের ল্যাংচা ব্যবসায়ীদের বলা হয়, ‘শক্তিগড়ের ল্যাংচা’ হিসেবে জিআই আবেদন করতে হবে। তার জন্য ল্যাংচার ইতিহাস লাগবে। সেই ইতিহাস যেটুকু পাওয়া যায় সংগ্রহ করতে হবে। সেই সঙ্গে এই মিষ্টি কেমন, কীভাবে বানানো হয়, নতুনত্ব কী তার উপর একটি লেখা জমা দিতে হবে। উন্নত করতে হবে ল্যাংচার গুণগতমান। কারণ, জিআই স্বীকৃতির জন্য গুণগতমান ভালো হওয়া দরকার।

রঙে-তুলিতে-চিত্রে শীতের উচ্ছ্বাস দেবভাষায়
বই ও শিল্পকে নতুন আঙ্গিকে মানুষের সামনে তুলে ধরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে দক্ষিণ কলকাতার ‘দেবভাষা’। প্রত্যেকটি ঋতুকে সামনে রেখে এক একটি প্রদর্শনী যেন কোনো রঙের মূর্চ্ছনা। যেখানে কান পাতলে সুরও শোনা যায় বৈকি! দেবভাষার দুই প্রধান কাণ্ডারী সৌরভ দে এবং দেবজ্যোতি মুখোপাধ্যায়ের দিকে নজর থাকে বাঙালির। সদ্য শেষ হয়েছে সোমনাথ হোরের চিত্রপ্রদর্শনী। এবার শীতের কথকতা শোনাতে প্রস্তুত নিয়েছে দেবভাষা। প্রদর্শনীর শিরোনাম – উইন্টার র্যা পসডি অর্থাৎ শীতের উচ্ছ্বাস। রবীন মণ্ডলের জীবিতাবস্থায় তাঁর শেষ প্রদর্শনী আয়োজন করেছিল দেবভাষা। তাঁর মৃত্যুর পর এই প্রথম প্রদর্শনী হতে চলেছে দেবভাষার কেজি সুব্রহ্মণ্যম কক্ষে। এছাড়াও শুভাপ্রসন্ন চিত্রিত পোস্টকার্ডের প্রদর্শনী হবে গৌরী ধর্মপাল কক্ষে। মণীন্দ্র গুপ্ত ও তুষার চৌধুরী কক্ষে শিল্পীদের হাতে আঁকা ক্যালেন্ডার প্রদর্শনী। উইন্টার র্যাপসডি উদ্বোধন করবেন কবি জয় গোস্বামী। ১৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে, চলবে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

সাইরেন ছাড়াই অ্যাম্বুলেন্স চলবে মহানগরে
অ্যাম্বুলেন্সের তীব্র সাইরেনের আওয়াজ অনেক সময়েই শব্দদূষণেরও কারণ হয়ে ওঠে। মুশকিল আসান করতে তাই অ্যাম্বুলেন্সের জন্য গ্রিন চ্যানেল আনছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে কলকাতায় গ্রিন চ্যানেল গড়তে পরিকল্পনা শুরু করেছে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। সহযোগিতায় পরিবহন দপ্তর এবং কলকাতা পুলিশ। এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া পাওয়া যাবে। কলকাতা পুলিশের দপ্তরে যুক্ত থাকবে অ্যাম্বুলেন্সের সফটওয়্যার। রোগী নিয়ে যাওয়ার সময়ে অ্যাম্বুলেন্সের রাস্তা ঠিক করে দেবে প্রশাসন। ফলে, আর সাইরেন বাজবে না অ্যাম্বুলেন্সে, ফ্ল্যাশলাইট জ্বলবে শুধু। মহানগরে সাফল্য মিললে রাজ্যের অন্যান্য জায়গাতেও চালু হবে গ্রিন চ্যানেল।

এবার সড়ক পথে শান্তিনিকেতন যেতে পারবেন আরও সহজে
কলকাতা থেকে সড়ক পথে শান্তিনিকেতন যেতে গেলে এখন তালিত রেলস্টেশনের পাশে লেভেল ক্রসিং পেরোতে হয়। গেট পড়ে গেলে অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হয় সেখানে। ভেদিয়ায় রেললাইনের তলা দিয়ে একসঙ্গে একাধিক গাড়ি যেতে পারে না। সেখানেও নষ্ট হয় দীর্ঘ সময়। বর্ষায় জল জমলে গাড়িগুলো ভেদিয়া স্টেশনের আন্ডারব্রিজ দিয়ে ঘুরে যায়। এতে বিপদের সম্ভাবনা থাকে। এবার, তালিত এবং ভেদিয়ায় দু’টি রেলওয়ে ওভারব্রিজ তৈরি করছে রাজ্য সরকার। রেল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ইতিমধ্যেই পাওয়া গিয়েছে। রাজ্য সড়ক গুসকরা রোডের ওপর চার লেনের দু’টি উড়ালপুল তৈরি করবে পূর্ত দপ্তর। কাজের জন্য টেন্ডার ডাকা হয়েছে। উড়ালপুল নির্মাণ করতে সময় দেওয়া হয়েছে দুই বছর।
