
মাঝরাতে মর্গ খুলিয়ে কর্নিয়া সংগ্রহ করা হয় সুজিত দত্তের
বাবা বলেছিলেন, ‘আমি মারা গেলে আমার চোখও দান করে দিস, পুড়িয়ে নষ্ট করিস না।’ তাই, বাবা মারা যাওয়ার পর, বাবার ইচ্ছা পূরণের জন্য কোমর বেঁধে নেমেছিল ছেলে। সেই জেদের কাছে কার্যত হার মানল যাবতীয় বাধা।
নদিয়ার ধর্মদায় মন্দির সংস্কারের জন্য লরিতে আনা পাথর নামাতে গিয়ে বুকে পাথর পড়ে মঙ্গলবার গুরুতর জখম হন স্থানীয় বেনেপাড়ার বাসিন্দা সুজিত দত্ত (৪১)। শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তাঁর। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে মৃতদেহ মর্গে ঢুকিয়ে দেয়। কিন্তু ততক্ষণে ছেলে সৌরভ দত্ত ঠিক করে নেয়, বাবার চোখ দান করবে সে। যদিও দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র সৌরভের কাছে কাজটা যথেষ্ট কঠিন ছিল। হাসপাতাল জানায়, মৃতদেহটি যেহেতু ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, তাদের লিখিত অনুমতি ছাড়া মর্গের ভিতর থেকে কর্নিয়া সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। কোতোয়ালি থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের বক্তব্য, আইন অনুযায়ী হাসপাতাল সুপারের কাছ থেকে লিখিয়ে আনতে হবে। কেটে যায় বেশ কয়েক ঘণ্টা। শেষমেশ জট খুলতে যোগাযোগ করা হয় কর্নিয়া সংগ্রকারী সংগঠন ‘শান্তিপুর মরমী’র সঙ্গে। তারা এসে রাত ১২টা নাগাদ মর্গের দরজা খুলিয়ে কর্নিয়া সংগ্রহ করে।
বুধবার বিকেলেই দু’জন দৃষ্টিহীনের চোখে সুজিতের দু’টি কর্নিয়া বসানো হয়ে গিয়েছে। সমস্ত মিটে যাওয়ার পরে, সৌরভ বলে, “আমি স্কুলে এনএসএস করি। ওখানে চক্ষুদান নিয়ে কর্মশালা হয়েছিল। বাড়ি ফিরে বাবাকে সব বলি। বাবা বলেছিল, মরার পরে যদি আমার চোখ দিয়ে দু’জন মানুষ দেখতে পায়, তার চেয়ে বড় কী আছে? তাই এত বড় ধাক্কার মধ্যেও আমি সেই চেষ্টা করেছি।”
