
পাঠকদের সঙ্গে সময় কাটালেন ৭ দিন
পেশাগত ব্যস্ততার কারণে বেশ কয়েক বছর বইমেলায় হাজির থাকতে পারেন না এই লেখক। রাষ্ট্রসংঘ এবং নানা আন্তর্জাতিক এনজিও-র কাজে বিশ্বে ঘুরতে হয় তাঁর। শেষ পর্যন্ত তাঁর একার বই নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনের আয়োজন করল দু’টি বই বিপণন প্রতিষ্ঠান। তাঁরা দাবি করলেন, এটি লেখকের একক বইমেলা।
এরকমই ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কবি ও কথাসাহিত্যিক কাজী জহিরুল ইসলামের লেখা নানান বইয়ের প্রদর্শন আয়োজিত হল গত ১৩ থেকে ১৯ অক্টোবর, টানা ৭ দিন। ছিল বই বিক্রির ব্যবস্থাও। সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ৭ তলায় অবস্থিত বাতিঘরে চলল এটি। প্রতিদিন বিকেলে লেখক উপস্থিত ছিলেন, মত বিনিময় করলেন পাঠকদের সঙ্গে।
৫১ বছর বয়সী জনপ্রিয় লেখক কাজী জহিরুল ইসলাম ৬১টি বই লিখেছেন। সময় প্রকাশন, অনন্যা, নালন্দা, বাংলা প্রকাশ, অনিন্দ্য, একুশে প্রকাশন, স্কলারস পাবলিশার্স, হোপ মাল্টিমিডিয়া, অগ্রদূত অ্যান্ড কোম্পানি, কারুবাক, তিউড়ি, য়ারোয়া, অয়ন প্রকাশন, রূপ প্রকাশনসহ আরও যারা লেখকের বই করেছে, তাদের সবার বই স্থান পেয়েছে এখানে। ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত তাঁর সম্পাদিত ইংরেজি কবিতার অ্যান্থোলজি ‘আন্ডার দ্য ব্লু রুফ’-এর তিনটি ভলিউম।
এই বই প্রদর্শনের আয়োজনে বাংলাদেশের বই বিপণন সংস্থা বাতিঘর ও এনআরবি স্কলারস পাবলিশার্স। স্কলারস পাবলিশার্সের সিইও এম ই চৌধুরী শামীম বলেন, “কাজী জহিরুল ইসলাম একজন জনপ্রিয় ও গুণী লেখক। তিনি অনেক বছর ধরেই একুশে বইমেলায় যোগ দেওয়ার মতো সময় করে উঠতে পারছেন না। তাঁর ভক্তরা লেখকের স্বাক্ষরসহ বই সংগ্রহের প্রত্যাশায় রয়েছেন”।
যাঁর বই নিয়ে এই প্রদর্শন, সেই জহিরুল ইসলাম বলেছেন, “পেশাগত বাধ্যবাধকতার জন্য অনেক দিন হলো একুশের বইমেলায় থাকতে পারছি না। ভেবেছিলাম এবার ঢাকায় গিয়ে কোনো একটি বড় বইয়ের দোকানে বসে আমার পাঠকদের ডাকব। একসময় শামীম ভাই আমার বই নিয়ে একটি একক বইমেলার প্রস্তাব দেন। প্রথমে ভেবেছিলাম এক দিনের মেলা হবে। শেষ পর্যন্ত বাতিঘর ঠিক করল সাত দিনের মেলা হবে। আমার ধারণা ওদের কাছে পাঠক জরিপ আছে। সাত দিন চলতে পারে বলেই তারা সাত দিনের মেলা করছে”।
