
মান্না দে হয়ে ওঠার নেপথ্য কাহিনি
মান্না দে-র জন্ম ১৯১৯ সালের ১ মে, কলকাতায়। আসল নাম প্রবোধচন্দ্র দে। কাকা সঙ্গীতাচার্য কৃষ্ণচন্দ্র দে-এর তত্ত্বাবধানে শুরু সঙ্গীতশিক্ষা। প্রবাদ প্রতিম এই শিল্পীর জীবনের নানা জানা-অজানা দিক তুলে ধরা হলো।
১) বিভিন্ন হিন্দি চলচ্চিত্রের জন্য সঙ্গীত পরিচালনার পাশাপাশি ওস্তাদ আমান আলি খান এবং ওস্তাদ আব্দুল রহমান খানের কাছ থেকে হিন্দুস্তানী শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নেন।
২) প্রথম প্লে ব্যাক গান ১৯৪২ সালে। 'তামান্না' ছবিতে। ‘জাগো জাগো অ্যায় ঊষা’ গানটি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
৩) ১৯৫২ সালে মান্না দে বাংলা এবং মারাঠী ছবিতে একই নামে এবং গল্পে ”আমার ভূপালী” গান করেন। এর ফলেই তিনি জনপ্রিয় গায়ক হিসাবে সঙ্গীতপ্রেমীদের নিকট স্বীকৃতি পান এবং নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
৪) ১৯৪২-২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি রবীন্দ্র সঙ্গীতসহ প্রায় ৪০০০ গান রেকর্ড করেছেন। ১৯৭১ সালে ভূষিত হন পদ্মশ্রী সম্মানে। ২০০৫-এ পদ্মভূষণ এবং ২০০৭-এ সম্মানিত হন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে।
৫) কফিহাউস গাওয়ার আগে বা পরে মান্না দে নিজে কখনও কফিহাউসে যাননি। এমনকি কফিহাউস সিরিজের দ্বিতীয় গানটার পরেও যাননি (গিয়েছিলেন গানটা রেকর্ড হওয়ার দু দশকরও পরে)। এমনকি এই দুই গানের সুরকার সুপর্ণকান্তিও যাননি।
৫) ১৯৯২ সাল থেকে বন্ধ করে দেন হিন্দি সিনেমায় প্লে ব্যাক। বলেছিলেন সিনেমার মান অত্যন্ত পড়ে গেছে। প্লে ব্যাক থেকে সরে গেলেও পরে ফিরে আসেন। শেষ গান হিন্দি সিনেমা 'উমর' এর জন্য রেকর্ড করেছিলেন ২০০৬ সালে। ২০১২ সালে শেষ লাইভ পারফর্ম্যান্স করেছিলেন মুম্বাইয়ে।
৬) বাংলা ও হিন্দি ছাড়া গেয়েছেন একাধিক ভারতীয় ভাষায়। তিনি বিরলতম শিল্পী যিনি কাজ করেছেন ১০০-র বেশি সঙ্গীত পরিচালকের সঙ্গে। তাঁর গানের ভক্ত ছিলেন মহম্মদ রফি। বলতেন‚ তার কাছে একটাই ডে অফ মিউজিক। সেটা হলো মান্না দে।
