
ঘোড়ার ল্যাজের অভাবে নিয়তির শিকার রাজপুরুষরা। মূর্তি হয়েও মূর্তিমান হয়ে ওঠা হল না। কিন্তু কেন?
লেজ আসলো না। মূর্তিও বসলো না। আসলে ‘সাগর জলে ল্যাজ ডুবিয়াছে।’ এমন কথার শুরুটা যেখান থেকে সেটা খোদ ইংরেজের রাজত্বকাল। লাট-বড়লাটরা তো আছেনই পাশাপাশি আছেন ইংরেজের অন্যান্য হর্তাকর্তা বিধাতারা যাঁদের মূর্তি বসানোর নেশায় তখন ইংরাজ পাগল। আর মূর্তি বসালে অমর থাকা যায় বহুদিন। কারণ লোকে ড্যাব ড্যাব করে তাকায় আর থেকে থেকে পেন্নাম দেয়। আর সেসবের ভেতর দিয়ে মরেও বেঁচে থাকে লাট বেলাটেরা। আর তাই ইংরেজ তখন নয়া অমরত্বের লোভে লাটবেলাটের মূর্তি বানায় রোমানদের নকল করে। তারপর সেসব মূর্তি বসিয়ে দেয় পথে ঘাটে বেদির উপর যাতে লোকে তাদের মনে রাখে আর ধন্য ধন্য করে।
সেই বীরত্বের প্রচারে, অমর থাকার প্রেরণায় ব্রিটিশের বাহাদুরদের মূর্তি তখন তৈরি হয় লন্ডন স্কটল্যান্ড ইত্যাদি জায়গায় ধাতুমূর্তির কারিগরদের ওয়ার্কশপে। সেখানে মূর্তি তৈরি হয় আর সমুদ্রপথে জাহাজে করে পাড়ি দেয় কলকাতায়। এই সব দিব্যি চলছিল। হঠাৎই কলকাতার লটারি কমিটি মানে যারা ওই সব টাকা পয়সা তুলে টাউনহলে মিটিং করে এই সব মূর্তির বিধি- ব্যবস্থা করেন তারা বল্লেন মূর্তির ঘোড়ার ল্যাজ অন্যরকম হতে হবে। মানে ঝুলন্ত ঘোড়ার ল্যাজ ঘোড়াকে কেমন যেন মিনমিনে করে তোলে। তাতে তার পিঠে বসা বাহাদুর লোকটিকেও আভাহীন দেখতে লাগে। তাই ঘোড়ার ল্যাজ হবে হাওয়ায় উড়ন্ত যাতে ঘোড়ার দস্যিপনাকে সহজেই অনুমান করা যেতে পারে।তবেই তো সওয়ারিকে লোকে বীর বলবে। ইংল্যন্ডের ওয়ার্কশপগুলিতে এই হাওয়ায় ওড়া উড়ন্ত লেজ তৈরি করা নিয়ে সমস্যা বাঁধলো। কারণ একবারে কাস্টিং করে লেজকে হাওয়ায় ওড়ানো সম্ভব নয়। তখন শুরু হল থরে থরে আলাদা লেজ তৈরির প্রক্রিয়া। যা পরে ঝালাই করে লাগানো হবে। একই সাথে লন্ডনের ওয়ার্কশপগুলি থেকে জানানো হল এই সব ল্যাজ ঝালাই হবে কলকাতায় মূর্তি বসানোর সময়। মূর্তি এসে গেল। পরের জাহাজে আসছে লেজ। এখানেই বাঁধলো গোল। ঘটা করে দিনক্ষণ ঠিক করে যখন মূর্তি বসানোর দিন আসন্ন তখন খবর এল ল্যাজ ভর্তি জাহাজ ডুবিয়াছে। কত শত বীরদের মূর্তি একারণেই আর বসলো না কলকাতার বুকে। সেদিন এমন ঘটনাও ঘটিয়াছিল।
