ব্যাগের ওজন কমাতে সারা মাসে একটি মাত্র বই

গুজরাটের এক প্রধান শিক্ষকের অভিনব পদক্ষেপ

প্রত্যেক দিন সকালবেলা স্কুল, আর স্কুল ছুটি হলে কোচিং ক্লাস। এই সবকিছুর জন্য ব্যাগে ভরা থাকে সারাদিনের বই, খাতা, পড়াশোনার অন্যান্য জিনিস, কখনো বা জল আর টিফিনের বাক্স। বাচ্চাদের স্কুলব্যাগটি এইভাবে ক্রমশ ভারী বোঝা হয়ে উঠছে, আর তাতে দেখা দিচ্ছে জটিল সব রোগ। চিকিৎসকরা বলে থাকেন, দিনের পর দিন ভারী ব্যাগ বইলে নষ্ট হয়ে যায় মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থান। দীর্ঘমেয়াদি পিঠ ব্যাথা, পিঠ বেঁকে যাওয়া, হাড়ে ফাটল ধরার পাশাপাশি বাধা পেতে পারে বাচ্চার স্বাভাবিক বৃদ্ধি। শিশুদের ভারী ব্যাগের বোঝা থেকে মুক্তি দিতে ২০০৬ সালে চিল্ড্রেন্স স্কুল ব্যাগস বিল পাশ করা হয়েছিল। সেখানে ব্যাগের ওজন নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বেঁধে দেওয়া হলেও বাস্তবে শিশুদের বোঝা কিন্তু কমেনি। তবে সম্প্রতি গুজরাটের এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্কুলব্যাগের ওজন কমানোর এমন অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে সারা দেশেই।

গুজরাটের ভগদ গ্রামের ভগদ গভর্নমেন্ট প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনন্দকুমার খালাস নিজের মেয়েকে স্কুলে দিতেও যাওয়ার সময় ব্যাগের অতিরিক্ত ভারী হওয়ার ব্যাপারটি খেয়াল করেন। তিনি নিজে যেহেতু একজন প্রধান শিক্ষক, তিনি উপলব্ধি করতে পারেন, তাঁর স্কুলেও ভারী ব্যাগ নিয়ে আসে পড়ুয়ারা। এই নিয়ে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তিনি। তাতেই উঠে আসে সমাধান। পড়ুয়াদের যতগুলি বিষয় পড়াতে হয়, প্রত্যেক মাসের সিলেবাস অনুযায়ী সেগুলোকে তিনি ভাগ করে দিয়েছেন দশটি বইতে। লেখার জন্য বইগুলোতে কিছু সাদা পাতাও থাকছে। এবার থেকে প্রত্যেক মাসে ওই দশটি বইয়ের মাত্র একটি করে পঠনপাঠনে ব্যবহৃত হবে। এই ব্যবস্থায় পড়ুয়াদের ব্যাগের ওজন ২-৫ কেজি থেকে কমে একেবারে হয়ে গেছে ৫৫০-৭৫০ গ্রাম। এই পদক্ষেপ স্বীকৃতি পেয়েছে গুজরাট কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং এর একটি অনুষ্ঠানে। 

আনন্দকুমারের এই উদ্যোগ সারা ফেলেছে শিক্ষামহলে। কলকাতার লা মার্টিনিয়ার ফর গার্লস স্কুলও অনুসরণ করছে তাঁর পদক্ষেপের। সেখানে ক্লাস ওয়ান থেকে এইট পর্যন্ত ক্লাসে পড়ানো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও তথ্যগুলির হ্যান্ডআউট দেওয়া হয়। ক্লাস নাইন থেকে বন্দোবস্ত আছে স্কুলের লকারেই বই রাখার। 

Developed by DXDasia