শেষমেশ মৃত সজল কাঞ্জিলালের কাঁধেই দোষ চাপাল মেট্রো?

রিপোর্টে বলা হয়েছে, যাত্রীর অসতর্কতাই এই দুর্ঘটনার কারণ

পার্কস্ট্রিট মেট্রো স্টেশনে সজল কাঞ্জিলালের মৃত্যুর ঘটনা আমরা সবাই জানি। একটি ভয়াবহ ‘দুর্ঘটনা’র শিকার হতে হল সজল কাঞ্জিলালকে। তারপর কেটে গেছে অনেকগুলো মাস। মেট্রোর দরজায় তাঁর হাত আটকে গিয়েছিল। সেই অবস্থায় চলতে থাকে মেট্রো। চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় সজলের। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মৃত সজলকেই কাঠগড়ায় তুলল মেট্রো কর্তৃপক্ষ। কমিশনার রেলওয়ে সেফটি জনককুমার গর্গ মেট্রো রেলকে দেওয়া একটি রিপোর্টে বিবরণ দিয়ে বলেছেন, যাত্রীর অসতর্কতাই এই দুর্ঘটনার কারণ। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মৃত সজল কাঞ্জিলালের পরিবার কোনও আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাবে না। যেভাবে মেট্রোরেল সজলের উপর সমস্ত দায় চাপালেন, তাতে মেট্রোর উদাসীনতাই প্রমাণিত হল আরেকবার।

যে শহরে প্রতি সপ্তাহে দু-তিনটে আত্মহত্যা বা লাইনে বিদ্যুৎ না থাকার খবর আসে, সেই শহরের মেট্রো ব্যবস্থা নিয়ে শহরবাসীর অনেকগুলো প্রশ্ন থেকে যায়। এই মেট্রোসিটি সজল কাঞ্জিলালকে একজন ভাস্কর হিসেবে চেনে। আর্ট কলেজের ছাত্রদের কাছে বড়ো আদরের সেই কাঞ্জিলালদাকে কলকাতার থিয়েটারপ্রেমী মানুষরা প্রায় প্রত্যেকেই চেনেন। বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিন এবং নাট্যপত্রিকা হেঁটে হেঁটে বিলি করতেন। কখনও আকাদেমি অফ ফাইন আর্টসে, কখনও রবীন্দ্র সদনে আবার কখনও তপন থিয়েটারের সামনে। আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে একজন থিয়েটারকর্মীই হয়ে উঠেছিলেন। ভালোবাসা পেলেও সম্মান পাননি। বরং পত্রিকা বিক্রি করতেি গেলে হয়তো একটু বিরক্তই হতেন নন্দন চত্বরের শিক্ষিত বাঙালি। কিন্তু একা ওই লোকটা হার মেনে নেননি। প্রতিদিন কতই বা রোজগার হত! অর্থের চেয়েও যে একটা বিশাল জীবন পড়ে থাকে, তা বুঝতে পেরেছিলেন, আয়ত্তও করেছিলেন। থিয়েটারের এই শহর তা বোঝেনি।

Developed by DXDasia