
দিনে তিন রাউন্ড করে দুইবার সাফারিতে কাজ করবে লক্ষ্মী ও ঊর্মিলা
শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারিতে সোমবার মহাপঞ্চমী থেকে শুরু হল হাতিসাফারি। রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী গৌতমদেব ও বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ হাতির পিঠে চেপে নিজেরা সাফারি করে এই সাফারির উদ্বোধন করলেন।
একবছর আটমাস আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিলিগুড়ি সালুগারা এলাকায় বেঙ্গল সাফারির উদ্বোধন করেন। সেই সাফারি এলাকায় এখন অনেক ময়ূর, হরিণ ছাড়া দুটি বাঘ আছে। সোমবার থেকে শুরু হল হাতিসাফারি। বক্সা ও জলদাপাড়া থেকে আনা হয়েছে ঊর্মিলা আর লক্ষ্মীকে। দিনে তিন রাউন্ড করে দুইবার সাফারিতে কাজ করবে লক্ষ্মী ও ঊর্মিলা। আর এর জন্য মাথা পিছু বরাদ্দ হয়েছে ৩০০ টাকা। এদিন সেই হাতি সাফারির উদ্বোধন করে দুইমন্ত্রী হাতির পিঠে কিছুটা সময় সাফারি করেন। সেখানে সাদা ময়ূরের এনক্লোজারের উদ্বোধনও হয়। উদ্বোধন হয় সবেনি ও রশপও। মন্ত্রী গৌতম দেব জানান, সেই শপে বিশ্ববাংলার কিছু হস্তশিল্পের কাজ রাখার চেষ্টা হচ্ছে। চারটে সাদা ময়ূর আনা হয়েছে। দুটি সাদা ময়ূর এসেছে আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে। এখন সেখানে ২৫টি ময়ূর আছে। শীঘ্রই সেখানে ময়ূরের সংখ্যা একশ ছাড়িয়ে যাবে।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার ও চিতা সাফারি শুরু হয়ে যাবে সেখানে। প্রচুর পাখি আছে সেখানে। সেই জঙ্গল শেষ হয়ে যাচ্ছিল। সেই জঙ্গলে এই সাফারি হওয়াতে জঙ্গল তার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে। বহু হরিণ আছে সেখানে। অনেক হরিণের প্রজনন হচ্ছে। শিশুদের খেলার জন্য সেখানে একটি নেচার ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার চালু হচ্ছে। এরজন্য পর্যটন দফতর চার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। সেখানে এখন একটি গণ্ডার থাকলেও আর একটি গণ্ডার আনার কথা ভাবা হচ্ছে। একটি কুমিরের পুকুর তৈরি হচ্ছে। এখন সেখানে চারটে ঘরিয়াল রয়েছে। আর যে বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গল শেষ হয়ে যাচ্ছিল সেই জঙ্গল তার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে কীভাবে তা নিয়ে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলজি ও বোটানি বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা গবেষণায় নেমেছে বলে পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব জানিয়েছেন। তবে উদ্বোধনের দিন থেকেই হাতি সাফারি নিয়ে অনেকের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়। পুজোর চারদিন অতিরিক্ত ভিড় এর জন্য তারা আশা করছেন বলে জানালেন সাফারির আধিকারিকরা।
