সবুজ নিধনের প্রতিবাদ সবুজ মঞ্চের

আগামী ১৪ মে ভোর চারটেয় বনগাঁ থেকে শুরু হবে ৫৩ কিলোমিটার পদযাত্রা

রাজ্যে যথেচ্ছ গাছ কাটার ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে প্রকৃতির ভারসাম্য। পরিবেশ দূষণও বাড়ছে দ্রুত। উন্নয়নের নামে এই গাছ কাটার প্রতিবাদেই, বৃহস্পতিবার কলকাতার প্রেস ক্লাবে ‘সবুজ মঞ্চ’-এর পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় একটি আলোচনাসভা ও সাংবাদিক সম্মেলনের। সবুজ মঞ্চের সম্পাদক নব দত্ত ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী গীতানাথ গাঙ্গুলি সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার ‘গাছ বাঁচাও’ আন্দোলনের কর্মীরা। 
যশোর রোডে ৪০০০-এরও বেশি গাছ কাটার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন চলছে, তা স্লাইড শো-এর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। ওখানকার প্রতিনিধিরা জানান, নিয়ম মেনে একটি গাছ কাটার বদলে ৫টি করে গাছ পুঁতলেও ২০০ বছরের পুরনো ওই ‘বনস্পতি’গুলির বিকল্প খুঁজে পাওয়া যাবে না কোনওদিনই। বিঘ্নিত হবে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রও। এরই প্রতিবাদে আগামী ১৪ মে ভোর চারটেয় বনগাঁ থেকে শুরু হবে ৫৩ কিলোমিটার পদযাত্রা। শুধু যশোর রোড নয়, রাজ্যজুড়ে সাম্প্রতিককালে ঘটে চলা সমস্ত পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ এই পদযাত্রায় সাধারণ মানুষ ও মিডিয়াকেও পাশে দাঁড়ানোর আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।
শান্তিপুর, সুন্দরবন, বসিরহাট থেকেও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এই সভায়। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য রক্ষার লড়াইয়ের কথা উঠে এল পরিবেশকর্মী সুভাষ আচার্যের কথায়। স্বল্পসংখ্যক কিছু রাজনীতিকের ভয়ে স্থানীয় মানুষও মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। প্রতিবাদ করলে নেমে আসছে আক্রমণ – এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 
এছাড়াও সাম্প্রতিককালে উত্তরবঙ্গের লাটাগুড়িতে গরুমারা জাতীয় উদ্যানের এলাকায় আইন ভেঙে ৫০০-এর বেশি গাছ কাটার জন্য চিহ্নিত হয়েছে। ওখানকার আন্দোলনকারীদের পাঠানো বিবৃতি ও কর্মসূচি পাঠ করা হয় প্রেস ক্লাবের সভায়। উপস্থিত পরিবেশকর্মীরা জানান, উন্নয়নের বিরুদ্ধে তাঁরা কেউই নন; কিন্তু উন্নয়নের নামে যথেচ্ছ গাছ কাটা এবার বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এ-প্রসঙ্গে ২০০৬ সালের পশ্চিমবঙ্গের বৃক্ষ আইনের কথাও উল্লেখ করেছেন তাঁরা। 
 

Developed by DXDasia