
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর
রুমা গুহঠাকুরতার জন্ম একটি প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিবারে। মা সতী দেবী ছিলেন সেই যুগের বিখ্যাত গায়িকা। আলমোড়ায় উদয় শংকর কালচার সেন্টারের সদস্য ছিলেন এবং পরে মুম্বাইয়ে পৃথ্বী থিয়েটারে মিউজিক ডিরেকটর হন। তিনিই ছিলেন দেশের প্রথম মহিলা সঙ্গীত পরিচালক। তাই রুমার ছেলেবেলা কেটেছে আলমোড়া ও মুম্বইয়ে। এছাড়াও সতী দেবী ১৯৫৮ সালে ক্যালকাটা ইয়ুথ কয়্যার প্রতিষ্ঠা করেন। রুমার জন্মটা যদিও কলকাতা শহরে। ১৯৩৪ সালে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ায় রুমা জন্মগ্রহণ করেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতি তখন বেশ থমথমে। গানটাই রুমার একমাত্র সঙ্গী ছিল না, বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয়ও করেছিলেন। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘অভিযান’ (১৯৬২) এবং ‘গণশত্রু’ (১৯৮৮)। এছাড়াও ‘বালিকা বধূ’, ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’, ‘অমৃত কুম্ভের সন্ধানে’র মতো একাধিক বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছেন এই শিল্পী।

কিশোর কুমার এবং অমিত কুমারের সঙ্গে রুমা (বাঁদিকে), সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে রুমা (ডানদিকে)
সোমবার সকালে কলকাতার বালিগঞ্জ প্লেসের বাড়িতে প্রয়াত হলেন রুমা গুহঠাকুরতা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। রুমার সঙ্গে কিশোর কুমারের বিয়ে হয় ১৯৫১ সালে। কিন্তু কয়েকবছরের মধ্যেই বিচ্ছেদ নেমে আসে তাঁদের জীবনে। তাঁদের ছেলে অমিত কুমারও একজন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। নিজের বাড়িতে ঘুমের মধ্যেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন শিল্পী। অভিনয় এবং সঙ্গীত জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
