
১৯৪৯ সালে এলাহাবাদে অল ইন্ডিয়া রেডিও-য় প্রথম প্রকাশ্যে আসেন গিরিজা দেবী
ফর্সা ছোটখাটো চেহারা, একমাথা সাদা চুল আর উজ্জ্বল দুটো চোখের মালকিন এই শিল্পী মঞ্চে এসে বসলেই উদগ্রীব হয়ে উঠতেন শ্রোতারা। গিরিজা দেবী। বেনারস ঘরানার এই ‘ঠুংরির রানি’ চলে গেলেন মঙ্গলবার রাতে। রেখে গেলেন অজস্র ভক্ত ও অনুজ শিল্পীকে। বয়স হয়েছিল ৮৮।
গিরিজা দেবীর জন্ম ১৯২৯ সালে বেনারসে। কীভাবে সঙ্গীতশিক্ষা শুরু হল, তার স্মৃতিচারণে একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন – ‘আমার বাবা রামোদিত্ত রাই তো জমিদার ছিলেন। গানের ভীষণ শখ ছিল। সব বিখ্যাত গাইয়েদের গান শুনতেন। স্বর সম্পর্কে ধারণা খুব ভালো ছিল বাবার। তাঁর ইচ্ছাতেই আমার পাঁচ বছর বয়সে সংগীত শিক্ষা শুরু হয়। স্বর্গীয় পণ্ডিত সারজু প্রসাদ মিথের কাছেই বাবা আমায় নিয়ে যান। তিনি সারেঙ্গী বাজাতেন আর গান করতেন। যেমন বড়ে গোলাম আলী খাঁ সারেঙ্গী বাজাতেন আর গাইতেন, তিনিও তেমনি ছিলেন।’ ১৯৪৯ সালে এলাহাবাদে অল ইন্ডিয়া রেডিও-য় প্রথম প্রকাশ্যে আসেন গিরিজা দেবী। দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনে পেয়েছেন উস্তাদ আলাউদ্দিন খান, উস্তাদ আলি আকবর খান, পণ্ডিত কিষণ মহারাজ, পণ্ডিত রবিশঙ্কর, ভীমসেন যোশী প্রমুখ কিংবদন্তীর সঙ্গ।
পূরবী অঙ্গের গায়কি পরম্পরার একমাত্র জীবিত শিল্পী ছিলেন তিনি। বলতেন, ‘খেয়ালই হোক, ঠুমরি হোক—পরিমিতি বোধটা থাকতে হবে। তুমি যদি সারাক্ষণই তালই করতে থাকো তাহলে সৌন্দর্য নষ্ট হয়। সবকিছুর একটা সীমা আছে, তা অতিক্রম করলে পুনরাবৃত্তি হতে থাকে।’
স্বামী মারা যাওয়ার পর ১৯৭৭ সাল থেকে কলকাতাতেই থাকতেন গিরিজা দেবী। পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ প্রমুখ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন জীবনে। এই কিংবদন্তী শিল্পীর মৃত্যুতে বিভিন্ন মহল থেকে শোকপ্রকাশ জানানো হয়েছে।
