
টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের পর এবার বিস্ফোরণ টুইটারে
টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেও, এখনও কেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সিপিএমের অন্দরে। এদিকে এরই মধ্যে ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব ঋতব্রত। টুইটারে তিনি বলছেন, পার্টি আমার পার্টি তোমার, পার্টি কারও বাপের নয়।
তাঁকে নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। ঋতব্রতর দাবি, বিচার পাননি। তাঁকে কি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে? দলে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আগেই তাঁকে সাসপেন্ড করে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। দলের খবর সংবাদ মাধ্যমকে দিয়েছেন তিনি, এই অভিযোগ ঋতব্রতর বিরুদ্ধে থাকলেও, কোনও প্রমাণ আছে কি দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছে। নাকি, তাঁকে অনেকেই সহ্য করতে পারেন না। তাঁর উত্থান কি অনেকেই ভীত ছিলেন? এমন নানা প্রশ্ন উঠছে সিপিএমের অভ্যন্তরে এবং বাইরেও।
ঋতব্রতকে নিয়ে এই মুহুর্তে যা পরিস্থিতি, তাতে ঋতব্রতকে বহিষ্কার না করলে সিপিএমের অন্দরেই সমালোচনার ঝড় উঠবে। টিভি ক্যামেরার সামনে ঋতব্রতর মুখ খোলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। অনেকে আবার বলছেন, জ্যোতি বসু, সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, সীতারাম ইয়েচুরিকে নিয়ে আলোচনা পর্যন্ত ঠিক ছিল। কিন্তু যখনই দলের তদন্ত কমিশন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সেলিম এবং পার্টি কর্মী তাঁর ছেলেকে টার্গেট করেন, তখন তাঁর লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন জাগে। ঋতব্রত নিজেই জানিয়েছেন, এক সময়ে যাঁকে তাঁর অভিভাবক বলা হত, সেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তাঁর বিরুদ্ধে। বিমান বসু, সূর্য মিশ্রসহ সংখ্যাগরিষ্ঠরা তাঁর বিরুদ্ধে। শুধুই কি তাঁর প্রতি ঈর্শান্বিত হয়েই তাঁর বিরুদ্ধে গিয়েছেন সংখ্যাগরিষ্ঠরা। সাংসদ হিসেবে বিমানযাত্রার জন্য সবচেয়ে বেশি পয়সা খরচ করা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দুর্নীতির অভিযোগ না থাকলেও, শুধুই কি দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে সামনে রেখে দলীয় তদন্ত কমিশন, তা নিয়েও ঋতব্রত বক্তব্যে রয়েছে ধোঁয়াশা।
শুধুই কি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভর করেই ঋতব্রত এগোবেন নাকি, সিপিএম তাঁর বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে এখনও সেটাই দেখার। তবে খুব তাড়াতাড়ি এবিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে বলেই সিপিএম সূত্রের খবর। আর বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর কোন পক্ষে তিনি হাত মেলান সেই সিদ্ধান্ত জানার অপেক্ষাতেই সবমহল। কেননা 'জয় বাংলা' স্লোগান তুলে তিনি বলেছেন, সব সময়ই তিনি বাংলাকে প্রাধান্য দেন।
