কালিম্পংয়ের ঐতিহাসিক ডালিম কেল্লা সেজে উঠছে অভিনব সাজে

ব্রিটিশরা এই দুর্গ ধ্বংস করে দিয়েছিল

ব্রিটিশরা কামান দেগে ধ্বংস করে দিয়েছিল লেপচাদের ডালিম দুর্গ। প্রায় ৪৫০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই দুর্গ সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে জিটিএ-র কারিগরি বিভাগ। 

কালিম্পংয়ের গরুবাথান ব্লকের এই কেল্লা ঘিরে প্রচলিত আছে লড়াই এবং প্রতিরোধের গল্প। লেপচা রাজা হংস গাবাচোর সঙ্গে ভুটানের রাজ্যকন্যার বিয়ে হয়েছিল। সেই রানির কোনো সন্তান ছিল না। এরপর রাজা এক স্থানীয় লেপচা মেয়েকে বিয়ে করেন। এতে ভুটানের রাজা অপমানিত ও ক্রুদ্ধ হয়ে লেপচা রাজ্য আক্রমণ করলেন। যুদ্ধে মারা যান রাজা হংস গাবাচো। তাঁর গর্ভবতী লেপচা স্ত্রী তখন পালিয়ে গিয়ে এক তান্ত্রিক সাধকের কাছে আশ্রয় নিলেন। সেখানে জন্ম নেন তাঁর সন্তান পুনু গোবাচো । 

স্থানীয় লোককথায় জানা যায়, তান্ত্রিক গুরুর কাছে সাধনা করে পুনু আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী হন, যার সাহায্যে তিনি লেপচাদের সংগঠিত করেন। লেপচাদের রাজা হয়ে তিনি এই দুর্গ নির্মাণ করলেন। এদিকে ইংরেজরা এদেশে আসার পর তাদের দৃষ্টি পরে লেপচা রাজ্যে। কিন্তু আধ্যাত্মিক বলে বলীয়ান পুনু গোবাচোর সঙ্গে তারা এঁটে উঠতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত এক বিশ্বাসঘাতক পুনুকে বিষ খাইয়ে হত্যা করে। তারপর ইংরেজরা কামান দিয়ে এই দুর্গ গুঁড়িয়ে দেয়। তবে, ডালিম দুর্গের কিছু কিছু পাথরের দেওয়াল ও বড়ো বড়ো ঘর এখনও টিকে আছে। লেপচারা এই দুর্গে ভক্তি ভরে পুজো দেন। 

দুর্গের পাশে টাঙানো একটি বোর্ডে লেখা আছে, জিটিএ কেল্লাটিকে নতুন করে সাজানোর দায়িত্ব নিয়েছে। ডালিম দুর্গ সংরক্ষণে ১.৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে জিটিএ। একটি ছোটো মিউজিয়ামও তৈরি করে দেওয়া হবে এখানে। দুর্গকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের নতুন জোয়ার আসবে বলে মনে করছে প্রশাসন ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। 
 

Developed by DXDasia