
আনাগোনা ঘটে দেশি-বিদেশি হাজারও পাখির
রাষ্ট্রপতি ভবন বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মহামহিম বৈভবপূর্ণ স্থাপত্য। যেখানে আছে ৩০০টি ঘর, ৫০টি রান্না ঘর, কাজ করেন ৭৫০ জন কর্মচারী। কিন্তু এখানে যে সমাবেশ ঘটে দেশি-বিদেশি প্রজাতির পাখির সে কথা অনেকরই জানা নেই। ডঃ থমাসা ম্যাথু ১২ মাসের পর্যবেক্ষণে ৩৩৮ পৃষ্ঠার ‘Winged Wonders of Rashtrapati Bhavan’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছিলেন। পাখি প্রেমিক হিসাবে বইটি দেখেছিলাম। কিন্তু রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে চাক্ষুষ দেখতে পারার ইচ্ছাও অনেকদিন। ইচ্ছাপূরণের দেবী যেন সোনার কাঠির ছোঁয়া লাগিয়ে আমার ইচ্ছাপূরণ করল। সুযোগ পেলাম ৭ দিন ৬ রাত রাষ্ট্রপতি ভবনে কাটানোর। স্বপ্ন যেন সত্য হল। ক্যামেরা, বাক্স-প্যাঁটরা গুছিয়ে নিয়ে চললাম রাষ্ট্রপতির ভবনের উদ্দেশ্যে।
রাষ্ট্রপতি ভবন রাষ্ট্রের প্রধান নায়কের বাসস্থান বা ঐতিহাসিক পীঠস্থান নয় শুধু, একটি বিশাল আকৃতির পাখিরালয়ও। যে মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি ভবনের ঘরে ঢুকলাম কানে আসল বিভিন্ন পাখির কলরব। মাঝে মাঝেই শোনা যাচ্ছে ময়ূরের উচ্চস্বর। মনটা আনন্দে ভরে উঠল। ঘরে ঢুকেই হঠাৎ চোখ পড়ল টেবিলের উপর রাখা চেনা বইয়ের উপর Winged Wonders of Rashtrapati Bhavan। তাতে আরও অনুপ্রাণিত হলাম।
প্রথমদিনই ঘুম ভাঙল পাখির ডাকে। তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে ক্যামেরা নিয়ে এগিয়ে চললাম মোঘল গার্ডেনের দিকে। গিয়ে শুনলাম রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় প্রাতঃভবন করছেন। সুতরাং নট অ্যালাউড্।
পরের দিনই সুযোগ পেলাম। রাষ্ট্রপতি ভবনের আমার ছায়াসঙ্গীটি ব্যবস্থা করে দিল। প্রেসিডেন্সি স্টেটের ভেতরে দিয়ে গাড়ি চলল গলফ্ কোর্স, টেনিস কোর্ট ও আরও কয়েকটা বাগানের পাশ দিয়ে। পৌঁছালাম ডালিখানা। ডালিখানা হল পাখিদের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র। ফুল, ফলের ভরা বাগান, শাকসবজির ক্ষেত, জলাশয় দিয়ে ঘেরা বিশাল প্রাকৃতিক জঙ্গল। জলাশয়ের দেখলাম পাতি হাঁস (spot-billed duck) স্নান করতে ব্যস্ত। চোখ ঘোরাতেই নজরে এল ডাহুক(white breasted waterhen), একঝাঁক রাজহাঁস, পানকৌড়ি(little cormorant), গো-বক(cattle egret), হোয়াইট থ্রোটেড কিং-ফিসার। একটা পাতি হাঁস(spot-billed duck) বাচ্চা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ময়ূর তার ছানাদের খাবার খেতে শেখাচ্ছে।
গাছের ডালে বসে আছে অনেকগুলি ক্ষুদে ঘুঘু(laughing dove), সিপাই বুলবুলি(red-whiskered bulbul), তিতপোখ বা রামগাংরা(great tit), শ্বেতাক্ষি বা বাবুনাই(white-eye) আরও অনেক চেনাজানা পাখি।
গ্রে হর্নবিল(grey hornbill) মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে বসল গাছের মগডালে। টেনিস কোর্টের ফ্ল্যাশ লাইটের ওপর বসে আছে কালো দোচরা বা ইবিস(red-naped ibis)। রেড ওয়্যাটলড ল্যাপ্ভিংস(red-wattled lapwings), গলায় লাল দাগওয়ালা টিয়া(rose-ringed parakeet), হাড়িচাঁচা, ইন্ডিয়ান ধূসর রঙের হর্নবিল। পাখিগুলো বসে আছে গাছের ডালে। সাদা চোখের বাজপাখি(White-eyed Buzzard) শিকারে বেরিয়েছে। ভুবন চিল বা বাদামি চিল(Black-eated Kite) কেঁচো খুঁড়ে খাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি ভবনের ফাউন্টেন থেকে জল খাচ্ছে ময়ূর। এ এক অপূর্ব দৃশ্য।
