
উত্তমকুমারের মৃত্যুদিনের একটি দুর্লভ ছবি
শ্রাবণ মাস এলেই কি বাঙালির মনে পড়ে ‘রোম্যান্টিক আইডল’ উত্তমকুমারকে! ‘দেবদাস’ ছবিতে মহানায়কের লিপে বিখ্যাত সেই নজরুলগীতি ‘শাওন রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে, বাহিরে ঝড় বহে, নয়নে বাড়ি ঝরে’। শ্রাবণে উত্তমকুমারকে কেনই বা মনে পড়বে না! ১৯৪৮ সালে ‘দৃষ্টিদান’ ছবিতে অরুণকুমার হিসাবে প্রথম অভিনয় করলেন। ছবি মুক্তি পেল ২৪ এপ্রিল। স্বাধীনতার একবছরও পেরোয়নি তখন। মুক্তি পেল কলকাতার চিত্রা সিনেমাহলে। অসিতবরণ, ছবি বিশ্বাস, কেতকী দত্তের পাশে প্রায় ঢাকা চাপা পড়ে গিয়েছিল অরুণকুমারের অভিনয়। তার পরের পাঁচ বছরে প্রায় ১৯টি ছবিতে পরপর অভিনয় করলেন ‘উত্তমকুমার’ হিসাবে। বাংলা চলচ্চিত্র নতুনভাবে ফিরে পেল তার মেজাজ। আজ উত্তমকুমারের ৪০তম প্রয়াণ দিবস। শহর তাঁকে ভোলেনি। কিন্তু ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই – কেমন ছিল সেই দিনটি? কলকাতার প্রবীণ চলচ্চিত্র-প্রেমী নয়ন দত্তের সঙ্গে কথা বললে কিছুটা আন্দাজ করা যায়। কথায় কথায় তিনি বলেন, “তৎকালীন সরকার উত্তমকুমারের মৃত্যুকে কোনো সরকারি স্বীকৃতি দেয়নি। শিল্পী সংসদ এবং আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে যখন ছুটে গিয়েছিলেন প্রত্যেক শিল্পী-সাধারণ মানুষ; তখন প্রায় নীরব ছিলেন সরকার। আমার বয়স তখন ৩২। ক্যাওড়াতলা মহাশ্মশানে অভিনেতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। শহরে সেদিন অঝোর ধারায় বৃষ্টি হয়েছিল।”

উত্তমকুমারকে ভালোবেসে সেদিন উপস্থিত ছিলেন দেশ-বিদেশের আলোকচিত্রীরা। তাঁদের মধ্যেই একজন হলেন তপন দাস। তখন নামজাদা একটি দৈনিক সংবাদপত্রে কর্মরত তিনি। উপরে যে ছবিটি দেখতে পাচ্ছেন, এটি তাঁরই তোলা। উত্তমকুমারের মৃতদেহের আশেপাশে দেখা যাচ্ছে অনুপকুমার, শমিত ভঞ্জ এবং রঞ্জিত মল্লিককে। ছবিটি এখনও দুর্লভ হয়ে আছে।
ভবানীপুরে উত্তমকুমারের বাড়িতে গেলে দেখা যাবে শয়নকক্ষে খাটের উপর তিনি বসে আছেন ‘ঝিন্দের বন্দি’র ফ্রেম হয়ে। যেন এক্ষুনি একটা সিগারেট ধরিয়ে বলে উঠবেন, ‘মেজাজটাই তো আসল রাজা’। …
ব্যবহৃত ছবি- তপন দাস
