
জামুড়িয়ার আলিনগরে গড়ে উঠেছে আস্ত অরণ্য
চারপাশের রুক্ষ লাল পাথুরে জমিকে ম্যাজিকের ছোঁয়ায় সবুজে বদলে দিয়েছেন মানুষটি। গত ৩০ বছর ধরে একা হাতে ৫ লক্ষ গাছ লাগিয়েছেন রাধেশ্যাম গড়াই। জামুড়িয়ার আলিনগরে গড়ে উঠেছে একটি আস্ত অরণ্য।
সত্তর পার করে ফেলে এখন বৃদ্ধ রাধেশ্যাম। তাঁর গাছপ্রেম অবশ্য অনেক আগে থেকেই। ছেলে-মেয়ে-স্ত্রীকে নিয়ে ভরা সংসার। আরেক সংসার যেন এই সাধের বনভূমি। দুশো একর জমিতে যে অরণ্যকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছেন তিনি। এর আগে এই জমির গোটাটাই ছিল পতিত। চাষ-আবাদও হত না। রুক্ষ-পাথুরে প্রাণহীন মাটি। ছায়া নেই কোথাও। জমি-মালিকদের থেকে এই পতিত জমিতে গাছ লাগানোর অনুমতি জোগাড় করেন রাধেশ্যাম। তারপর যা ঘটে, তাকে আশ্চর্য বললে কম বলা হয়।
বনদপ্তরের অফিসারেরা এসে দেখে গেছেন এই অরণ্য। স্থানীয়রা বলেন রাধেশ্যাম নাকি ‘গাছপাগল’। ভুল বলেন না অবশ্য। বনের ভিতরেই সেচের জন্য পুকুর খুঁড়েছেন রাধেশ্যাম, সামান্য জমিকে উর্বরা করে তোলার চেষ্টাও করছেন। বয়স হয়ে গেছে। আগের মতো ধকল সয় না। তা সত্ত্বেও ‘গাছপাগল’ রাধেশ্যাম গাছ লাগানো বন্ধ করেননি। পৃথিবীকে যদি আরেকটু সবুজ ফিরিয়ে দেওয়া যায়, ক্ষতি কী!
