
শরৎচন্দ্র দাস নামের এক ভিক্ষুক শিলিগুড়ির ঠাকুরনগরে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। কার মন্দির?
দুর্জনেরা বলবেন তেত্রিশ কোটি দেবতা থাকা সত্ত্বেও ঈশ্বর কি কিছু কম পড়িয়াছে? তাতে বয়েই গেছে ওদের। ওদের মানে শিলিগুড়ির স্বরূপানন্দ দাস, কল্পনা ঘোষ, শংকর ঘোষদের। সতেরো বছর আগে স্বরূপানন্দ ওরফে শরৎচন্দ্র দাস নামের এক ভিক্ষুক শিলিগুড়ির ইস্টার্ন বাইপাসের ঠাকুরনগরে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। কার মন্দির? বাঙালির সব ঠাকুরের সেরা রবি ঠাকুরের। স্বরূপানন্দ মারা গেলেও অনুগামীদের ভিড় কমে তো নি বরং বেড়েছে। রীতিমতো কমিটি গঠন করে চলছে নিত্য রবিপুজো। এতদিন কবির প্রতিকৃতিতেই মালা দিয়ে চলছিল বন্দনা। গতকাল বসলো মূর্তি।
অন্য দিন সামান্য ফল বাতাসা জোটে তাঁর। কিন্তু জন্মদিনের দিন একটু স্পেশাল মেনু তো থাকবেই। তাই অন্নভোগ, মিষ্টিতে আয়োজন ছিল জমজমাট। স্থানীয় বিধায়ক, কাউন্সিলর ছাড়াও ২৫ শে বৈশাখের উৎসবে যোগ দিতে শিলিগুড়ি শহর থেকেও এসেছিলেন অনেকে।
তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম। মূর্তি পুজোর বিরোধী। কিন্তু শিলিগুড়ির ইস্টার্ন বাইপাসের সরল সাদা-সিধা মানুষজন অতশত তত্ত্ব কথা বোঝেন না। তাঁদের সরল বিশ্বাসে উপাধি ‘ঠাকুর’ হয়ে উঠেছে প্রকৃতই ঈশ্বরের অভিধায়ক। তাই এলিট ‘রবিপুজো’ নয়, রীতিমতো বাতাসে ধূপ-ধুনোর গন্ধ ভাসিয়ে শিলিগুড়ির ঠাকুরনগরে উদযাপিত হল রবীন্দ্রজয়ন্তী। অনেকেই ঠাকুরনগরকে এখন উত্তরের শান্তিনিকেতন বলছেন। সুজনেরা কী বলবেন?
