গিনেস বুকের রেকর্ড ভাঙতে চলেছেন ১৫১১টি বইয়ের এই বাঙালি লেখক

আমেরিকার জনৈক লেখককে পিছনে ফেলে রেকর্ড গড়ছেন পৃথ্বীরাজ সেন

লেখাই তাঁর একমাত্র ধ্যান জ্ঞান সাধনা। সাহিত্যের প্রতি তাগিদ থেকেই লেখক পৃথ্বীরাজ সেন ইতিমধ্যে অনুবাদ ও মৌলিক মিলিয়ে প্রায় ১৫১১টি বই প্রকাশ করে ফেলেছেন। উপন্যাসের বই ২০০, প্রবন্ধের বই ১০০, ৬০০টি অনুবাদ বই এবং বিজ্ঞানের বইয়ের সংখ্যা ৬০০টি। এরপর আর মাত্র ২৫টি বই প্রকাশ বাকি। তারপরেই একজন বাঙালি লেখক হিসাবে তাঁর নাম উঠবে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বে। তাঁর বই সমাদৃত হবে পৃথিবীর দেশে দেশে। ব্যাপারটা একটু খোরাকের মনে হচ্ছে? অবাক হচ্ছেন? না না, অবাক হওয়ার কিছু নেই। পৃথ্বীরাজ সেন বারবার বলেন, বাংলা সাহিত্যের প্রতি বিশেষ আগ্রহ থেকেই তাঁর এই সাধনা। এর আগে আমেরিকার এক লেখক ১০৮৪টি বই লিখে গিনেস বুকে নাম তুলেছিলেন। তাঁকে দেখেই প্রভাবিত হলেন পৃথ্বীরাজ। তিনি চা খান না, টিভি দেখেন না, অন্য কোনো নেশাও নেই। 

পড়াশোনা করেছেন প্রেসিডেন্সি কলেজে। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ছোটো থেকেই সাহিত্যের প্রতি টান অনুভব করতেন। একসময় ন্যাশনাল লাইব্রেরি, উত্তরপাড়া সাধারণ পাঠাগার, চৈতন্য লাইব্রেরি, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে গিয়ে নিয়মিত বই পড়তেন। পড়াশোনার অভ্যাসটা এখনও রেখে দিয়েছেন। লেখা শুরুর আগে নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর পড়াশোনা করেন। তারপর লেখার অডিও রেকর্ডিং। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা টানা ছয় ঘণ্টা কথা বলেন। সেই কথাগুলোই সাহিত্যরসে জায়গা করে নেয় তাঁর বইয়ের পাতায়। এরপর বই ছাপে। আর একটি করে রেকর্ডের উচ্চতায় পৌঁছে যান তিনি। একসময় হাওড়ার একটি কো–অপারেটিভ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু সেসব চাকরি ছেড়ে চলে এসেছেন বই লেখার কাজে। পৃথ্বীরাজ সেন হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি মনে করেন একজন লেখক হয়েই অর্থ উপার্জন করা যায়। এই চ্যালেঞ্জকে স্ব-ইচ্ছায় একদিন বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর মুখে বলা কথাগুলোই শুনে শুনে লেখেন পাঁচজন লিখিয়ে। তাঁদের কাজ সমস্ত শব্দ লিখে রাখা। 

সাহিত্যের প্রতি দায়িত্ব নিয়ে লেখা নাকি শুধুমাত্র গিনেস বুকে তাঁর নাম একসময় জ্বলজ্বল করবে বলে লেখা? বহু প্রশ্নই আজ উঠে আসবে আমাদের মনে। কথায় আছে “আশায় মরে চাষা”। এক্ষেত্রে হয়তো তেমনটি হবে না। কারণ ইতিমধ্যেই বেশ অনেকটা দূরে পৌঁছে গেছেন তিনি। চাঁদের পাহাড় দেখতে পেয়েছেন, ছোঁয়ার জন্য আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। তিনি কেন লিখছেন না ভেবে প্রশ্ন তোলা যায় তিনি কাদের জন্য লিখছেন? কারা কিনছেন তাঁর বই? বাংলা সাহিত্যের উপকারে লাগছে কি তা? পৃথ্বীরাজবাবুর ভিজিটিং কার্ডে লেখা আছে “গিনেস অ্যাসপিরেন্ট অথর”। অথরের ভবিষ্যৎ আমরা জানি। কিন্তু তাঁর বইয়ের রচনা আশা করি মানুষ পড়বেন। গিনেস বুকে রেকর্ড করার জন্য নয়, তিনি নতুন কিছু সৃষ্টি করেছেন- এই তাগিদ থেকেই তিনি পেয়ে যাবেন বৃহৎ পাঠকমহল।

ছবি- সংগৃহীত

Developed by DXDasia