প্রেমপত্র খেয়ে ফেলল ষাঁড়

ভোলার মুড দেখে আজও প্রেমিক খগেন কী বোঝার চেষ্টা করে চলেছে?

ছোট স্টেশন। পাশেই মাঠ। মাঠেই ওদের আড্ডা।তিন বন্ধু। মাঠের এক কোণে বাড়ি মোনালিসার। মোনালিসা প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তিন বন্ধুর এক জন, খগেনের মোনালিসাকে খুব পছন্দ। খগেন পড়ে সেকেন্ড ইয়ারে। পছন্দ তো হল, কিন্তু মোনালিসা কি তা জানে? জানানোর কম চেষ্টা করেনি খগেন। মোনালিসার কলেজ যাওয়ার পথে রোজই দাঁড়িয়ে থাকে খগেন। কোনও দিন মনে হয় যেন দেখল একটু, যেন একটু হাসি মুখ। কোনও দিন মনে হয়, ভীষণ গম্ভীর। এই ভাবেই চলছিল। এক দিন তিন বন্ধু মিলে ঠিক করল এ ভাবে তো চিরকাল চলতে পারে না, একটা উত্তর চাই। তাই ঠিক হল, খগেন চিঠি দেবে মোনালিসাকে। সেই মতো চিঠি লেখা হল। পাশ দিয়ে সাইকেলে যেতে যেতে মোনালিসার পায়ের কাছে চিঠি ফেলে দিল খগেন। পেছন থেকে নজর রাখছিল বাকি দু’জন। হ্যাঁ কোনও ভুল নেই, মোনালিসা নিচু হয়ে চিঠি তুলে নিল। তার পর দু’দিন যেতে না যেতেই রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা খগেনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটা দলা পাকানো কাগজ ফেলে দিল মোনালিসা। খগেন এদিক ওদিক তাকিয়ে সেটা তুলতে যাবে, এমন সময় সেই ভয়ঙ্কর কাণ্ডটা ঘটল। বাজারের বিশাল ষাঁড়টা মানে ভোলা, কোথা থেকে যেন হেলতে দুলতে এসে খগেনকে ডজ করে ওই দলা পাকানো কাগজটা মুখে পুড়ে উদাস ভাবে চিবোতে চিবোতে বাস স্ট্যান্ডের দিকে চলে গেল। খগেন কিছু ক্ষণ থমকে দাঁড়িয়ে থেকে ভোলার পিছু নিল। কিন্তু সেটা বোধ হয় ভোলার পছন্দ হল না। দু’বার পেছন ফিরে কটমট করে খগেনের দিকে তাকাতেই, খগেন বুঝল আর এগোনো ঠিক হবে না।

বাস স্ট্যান্ডের পেছনেই রাতে ভোলা থাকে।  সারা দিন এ বাজারে সে বাজারে মুলো, আলু খেয়ে বেড়ায়। রাতে বাস স্ট্যান্ডের পেছনে একটা ভাঙা বাড়ির চাতালে গিয়ে ঘুমোয়। পর দিন তিন বন্ধু সেই চাতালে এল। খগেনের হাতে একটা শক্ত কাঠি। উদ্দেশ্য প্রয়োজনে ভোলার বর্জ্যে যদি চিঠিটা পাওয়া যায়। কিন্তু পাওয়া গেল না। এমন সময় খগেন দেখল, ভোলার এই সময় বাজারে টাজারে থাকার কথা, কিন্তু ভোলা বাজারে যায়নি, দূরে দাঁড়িয়ে ওদের তিন জনের উপর নজর রাখছে। ওরা আর বেশিক্ষণ সেখানে দাঁড়ালো না। জানাও গেল না মোনালিসা কী লিখেছিল খগেনকে। এর পর পর মোনালিসারা কোথায় একটা বদলি হয়ে চলেও গেল।

এখনও মাঝে মাঝে খগেন এসে ভোলাকে ফলো করে। বোঝার চেষ্টা করে ভোলাকে বিমর্ষ দেখাচ্ছে না খুশি খুশি দেখাচ্ছে। যেদিন খুশি খুশি দেখায়, সেদিন খগেনের মনে হয় মোনালিসা হয়তো হ্যাঁ-ই বলেছিল। খগেন খুশি হয়। আবার যেদিন ভোলাকে বিমর্ষ দেখায় সেদিন খগেনেরও মন খারাপ হয়ে যায়, ভাবে তাহলে না-ই লিখেছিল মোনালিসা ওই চিঠিতে। এখনও সেখান গেলে দেখা যায় ভোলা হেঁটে চলেছে হেলে দুলে। একটু দূরে বাইনোকুলার হাতে পিছু পিছু হাঁটছে খগেন।

Developed by DXDasia