
আজ প্রফুল্ল চাকীর জন্মদিন
কলকাতা প্রেসিডেন্সির ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যার দায়িত্ব ক্ষুদিরাম বসুর সঙ্গে প্রফুল্ল চাকীকেও দিয়েছিল যুগান্তর গোষ্ঠী। তখন কিংসফোর্ড বদলি হয়ে বিহারের মুজাফফরপুরের সেসন জজের পদে ছিলেন। ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকী মুজাফফপুরে গিয়ে এই অত্যাচারী শাসককে হত্যার চেষ্টা করেন, যদিও তা সফল হয়নি। মারা গিয়েছিলেন দুই ব্রিটিশ মহিলা। এরপর দুই বিপ্লবী পালানোর চেষ্টা করেন। ওয়াইনি রেল স্টেশনে পুলিশের হাতে ধরা পরেন ক্ষুদিরাম বসু। পরে তাঁর ফাঁসি হয়। আর মোকামাঘাট রেল স্টেশনে পুলিশ প্রফুল্ল চাকীকে ধরা চেষ্টা করলে নিজের মুখে গুলি করে আত্মঘাতী হন তিনি। দিনটা ছিল ১৯০৮ সালের ২ মে। এখন অবশ্য অনেক গবেষক মনে করেন, প্রফুল্ল চাকী আত্মহত্যা করেননি, পুলিশ তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।
প্রফুল্ল চাকীর জন্ম হয়েছিল ১৮৮৮ সালের ১০ ডিসেম্বর বগুরা জেলায়। তিনি যখন রংপুর জেলা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র, তখন সরকারের কার্লাইল সার্কুলারের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। সেই অপরাধে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয় তাঁকে। তারপর রংপুরের কৈলাশ রঞ্জন উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি, যেখানে তাঁর পরিচয় ঘটে অবিনাশ চক্রবর্তী, ঈশানচন্দ্র চক্রবর্তী, জিতেন্দ্রনারায়ণ রায়ের মতো বিপ্লবীদের সঙ্গে। এঁদের সংস্পর্শে থেকে প্রফুল্লও সশস্ত্র বিপ্লবী ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে ওঠেন। এরই মধ্যে বিপ্লবী বারীন্দ্রনাথ ঘোষের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। বারীন্দ্র তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসেন। যুগান্তর দলের সদস্য হন প্রফুল্ল।
পূর্ববঙ্গ ও আসামের লেফটেন্যান্ট গভর্নর ব্যামফিল্ড ফুলার ছিলেন অত্যাচারী। সাধারণ জনগণ তাঁকে প্রচণ্ড ঘৃণা করত। ফুলারকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বারীন্দ্রনাথ, প্রফুল্ল-সহ যুগান্তরের বিপ্লবীরা। কিন্তু হত্যা করতে গেলে অস্ত্রের প্রয়োজন। আর অস্ত্র কিনতে টাকা দরকার। ঠিক হল, ডাকাতি করে টাকা জোগাড় করা হবে। কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে প্রফুল্ল গিয়েছিলেন রংপুরের জমিদারবাড়ি ডাকাতি করতে। জমিদারবাড়িতে পুলিশ প্রহরা থাকায় ব্যর্থ হয় এই অভিযান। তখন ফুলারকে মারার জন্য অন্য পন্থা নেন বিপ্লবীরা। ট্রেনের লাইনে পুঁতে রাখেন ব্যাটারি চালিত বোমা। এই কাজেও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন প্রফুল্ল চাকী। কিন্তু ফুলার সেইবার অন্য পথ দিয়ে গেলেন। আরেকবার তাঁকে হত্যার চেষ্টা করতে নৈহাটি স্টেশনে গিয়েছিলেন প্রফুল্ল। পরিকল্পনা ছিল, ফুলারের গায়ে বোমা ফেলা হবে। কিন্তু প্রফুল্লকে স্টেশন থেকে বের করে দেয় পুলিশ। ফুলারকে হত্যা করার স্বপ্ন তাই অধরাই থেকে গেল প্রফুল্লদের।
অ্যান্ড্রু ফ্রেজারকে হত্যা করার দায়িত্বে ছিলেন বারীন্দ্রকুমার ঘোষ, উল্লাসকর দত্ত, শান্তি ঘোষ, নরেন্দ্রনাথ গোস্বামী ও প্রফুল্ল চাকী। ১৯০৭ সালে চন্দননগরে রেললাইনের নিচে বোমা রাখা হল। ফ্রেজারের ট্রেন তার ওপর দিয়ে চলে গেলেও বোমা ফাটল না। বেঁচে গেলেন ফ্রেজার। কয়েকদিন পর বিপ্লবীরা আবার রেললাইনের নিচে বোমা রাখলেন। কিন্তু ফ্রেজারের স্পেশাল ট্রেন সেই পথে গেলই না।
ততদিনে যুগান্তর দলের একজন দক্ষ ও বিশ্বস্ত কর্মীতে পরিণত হয়েছেন প্রফুল্ল চাকী। অস্ত্রের ব্যবহার রপ্ত করেছেন ভালোই। বিপ্লবীরা তখন ডগলাস কিংসফোর্ডকে মারার পরিকল্পনা করছেন। প্রথমে বই বোমা দিয়ে তাঁকে হত্যার চেষ্টা হয়। কিন্তু কিংসফোর্ড সেই বইয়ের প্যাকেট খুললেনই না। সেবারের মতো বিপ্লবীদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হল। তখন মুজাফফরপুর গিয়ে কিংসফোর্ডকে হত্যা করার দায়িত্ব দেওয়া হয় ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকীকে।
তথ্যঋণ – রোর বাংলা, সব বাংলায়।
