পরাধীন ভারতের এক রাষ্ট্রনায়কের বিদেশের মাটিতে ‘ডিপ্লোম্যাটিক মিশন’। উদ্দেশ্য ছিল ভারতের স্বাধীনতার স্বপক্ষে বিশ্ব দুনিয়ার সমর্থন যোগার করা
পাখির মত নেমে এসে বিমানটি রানওয়ে স্পর্শ করলো। বিমান বন্দরে অপেক্ষারত বিশ্ব নেতাদের চোখেমুখে সেদিন উত্তেজনার ছাপ স্পষ্ট। টোকিও বিমান বন্দরে তাঁরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন এক বিশ্ব বরেণ্য ভারতীয় রাষ্ট্রনায়কের জন্য। বিমান থেকে নেমে সোজা এগিয়ে গেলেন অপেক্ষা রত নেতৃবর্গের দিকে। ভারতীয় সেই রাষ্ট্রনায়কের নাম সুভাষচন্দ্র বসু। দেশের রাষ্ট্র নেতাদের এই রকম অপেক্ষা কিংবা এই রকম বিপুল অভ্যর্থনা সাধারণত আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুসারে ধার্য করা থাকে কোনও দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের জন্যই। সেই প্রোটোকল অক্ষরে অক্ষরে নেতাজির জন্য পালন করেছিল জাপান। শিশুরা জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করে পথের দু’পাশে তাঁকে স্বাগতম বার্তা দিয়েছিল। সেদিন নেতাজির গন্তব্যস্থল ছিল ‘গ্রেটার ইস্ট এশিয়া কনফারেন্সের সভাস্থল। বলতে গেলে এটিই ছিল পরাধীন ভারতের এক রাষ্ট্র নায়কের বিদেশের মাটিতে ‘ডিপ্লোম্যাটিক মিশন’। উদ্দেশ্য ছিল ভারতের স্বাধীনতার স্বপক্ষে বিশ্ব দুনিয়ার সমর্থন যোগার করা। সেই উদ্দেশ্যেই বেছে নিয়েছিলেন জাপানের মাটিকে। কারণ তিনি জানতেন জাপানের সঙ্গে ভারতবর্ষের সাংস্কৃতিক বন্ধনের এক সুপ্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে। পরবর্তী সময়ে জাপানে দাঁড়িয়ে যে বক্তব্য তিনি রেখেছিলেন তা গোটা বিশ্বকে চিনিয়ে দিয়েছিল একজন ব্যক্তি মানুষ কিভাবে দেশমাতৃকার স্বাধীনতার যুদ্ধ করতে করতে বিশ্বমানবে পরিণত হয়।
