
পোলো স্টিক রপ্তানিতেই বাঁচার নতুন দিশা দেউলপুরের
আমাদের দেশে পোলো খেলার ইতিহাস বেশ পুরোনো। দিল্লির প্রথম সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক ছিলেন পোলোর জন্য বিখ্যাত। লাহোরে এই খেলা খেলতে গিয়েই মৃত্যু হয়েছিল তার। তারপর ব্রিটিশ শাসনকালে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পোলো ক্লাব তৈরি হয়। তখন পোলো খেলা হত কাঠের বল দিয়ে, যেগুলো নষ্ট হয়ে যেত সহজেই। দেউলপুর গ্রামের বিপিনচন্দ্র বাগ তখন ব্রিটিশ খেলোয়ারদের জন্য বানিয়ে দেন বাঁশের পোলো বল। ১৮৬২ সালে ক্যালকাটা পোলো ক্লাব তৈরি হলে বাড়তে থাকে বাঁশের সেই বলের চাহিদা। ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে দেউলপুরের নাম। তারপর এক সময় আর্জেন্টিনায় তৈরি হতে থাকে ফাইবারের পোলো বল। সারা বিশ্বে আর্জেন্টিনার সেই বলের চাহিদা বাড়তে থাকলে বাঁশের পোলো বলের কদরও আস্তে আস্তে কমতে থাকে। দেউলপুরের বাগ পরিবার তখন বল ছেড়ে বানানো শুরু করে কাঠের পোলো স্টিক। সেই সব ম্যালেট দিল্লি হয়ে ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে।
হাওড়া জেলার এই গ্রাম এখন রোল মডেল হয়ে উঠেছে সারা বাংলার কুটির ও ক্ষুদ্রশিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের কাছে। বাগ পরিবার হয়ে উঠেছে গ্রামীন উদ্যোক্তাদের প্রেরণা। যখন বাগেদের তৈরি পোলো বল সারা বিশ্বে জনপ্রিয় ছিল, তখন দেউলপুরের দাস, শীট, মাইতি, হাজরাদের মতো প্রায় ৫০টি পরিবারের লোকেরাও বল তৈরির কাজে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন। গত শতকের নয়ের দশকে বলের বাজারে মন্দা আসতে থাকে। তখন অন্যান্য সব পরিবার পোলো থেকে দূরে সরে গেলেও বাগেরা কিন্তু যাননি। বল তৈরি ছেড়ে তাঁরা পোলো স্টিক বানানো শুরু করেন। কলকাতার চেয়ে দিল্লিতে পোলো সরঞ্জামের চাহিদা বেশি। তাই দিল্লির ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় একটা আউটলেট খুলেছেন তাঁরা। সেখান থেকে বিশ্বের নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ে বাগেদের পোলো স্টিক। তারা শেষ বল তৈরি করেছিলেন ২০১২ সালে। এখন তারা অবশ্য বিদেশ থেকে আনা পোলো বল দিল্লিতে বিক্রি করেন।
