
‘বলিতাম – বড় ভালো দেখি তোরে স্নানার্দ্র বসনে।/তুমি হেসে শাসনের ছলে তর্জনী/তুলিয়া চলে যেতে দ্রুতপদে’
ওগো সখি, ওগো মোর প্রিয়া, তব স্মৃতিখানি
মধুমাখা আঁকা রবে মম হৃদি তলে
চিরদিন। বহু প্রীতি ভালোবাসা দিয়ে
এ জীবনে রাঙাইলে স্বপ্নমধুরিমা,
ভুলিবার যাহা নহে কভু। নিশীথের মর্মর
বাতাসে, অবিশ্রান্ত বিহগ কূজন-স্বনে…
কত নিশা, কত জ্যোছনা-যামিনী,
শরতের শান্ত সন্ধ্যা – পউষের স্বর্ণরাঙা মধুর বৈকালে
আমারে হেরিয়া প্রীতিপূর্ণ হাসিমাখা ডাগর নয়নে
সিঞ্চিয়াছে স্বর্গের অমৃত। কত ঢিল
ফেলা অতর্কিতে মোর ঘরে, কিশোরীর
কত চঞ্চলতা মনঃ মর্ম
ঘুরিয়া ফিরিবে। …যবে ঘাট
থেকে সিক্ত দেহে, আসিতে উঠিয়া –
আমি কত ছল করি লোভাতুর
দৃষ্টি মেলে রহিতাম চাহি –
বলিতাম – বড় ভালো দেখি তোরে স্নানার্দ্র বসনে।
তুমি হেসে শাসনের ছলে তর্জনী
তুলিয়া চলে যেতে দ্রুতপদে। সিক্ত
চরণের দুটি চিহ্ন বহু যুগ ধরি
আঁকা রবে সে-ঘাটের মৃত্তিকার পথে।
(বিভূতিভূষণ এই কবিতাটি লিখেছিলেন তাঁর ‘উৎকর্ণ’ নামক ডায়রিতে। শচীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘কালি ও কলম’ পত্রিকার ভাদ্র ১৩৮০ সংখ্যায় প্রকাশিত, গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্যের প্রবন্ধ ‘অপুর পাঁচালী’ থেকে সংকলিত)
