
তাঁদের ডিলারশিপ বাতিল করার কথা ভাবছে প্রশাসন
দার্জিলিং পাহাড়ে রেশন বিলি করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য সরবরাহ দপ্তরের তরফে যেসব এমআর ডিলার নিয়োগ করা হয়েছিল, তাঁরা উধাও। তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু তারপরও কোনও খবর নেই তাঁদের। তাই এবার তাঁদের ডিলারশিপ বাতিল করার কথা ভাবছে প্রশাসন। বুধবার দার্জিলিং-এর জেলাশাসক জয়সি দাশগুপ্ত বলেন, পাহাড়ে তাঁরা খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চান। কিন্তু এমআর ডিলাররা নেই। নেই রেশন ডিলাররাও। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সাত জন বড় এমআর ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে হচ্ছে।
জেলাশাসক জানান, তাঁরা পাহাড়ে স্বাভাবিক নিয়মে খাবার পৌঁছে দিতে চাইলেও বাধা দিচ্ছে আন্দোলনকারীরা। শিলিগুড়ি থেকে সুফল বাংলায় খাবারের গাড়ি পাহাড়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলে সেই গাড়িতে হামলা চালায় আন্দোলনকারীরা। যদিও আন্দোলনকারী মোর্চা নেতারা তাঁদের নিজস্ব গাড়ি চলাচলের জন্য পাশ ইস্যু করেছেন। সেই পাশ নিয়ে মোর্চার গাড়ি চলছে।
অন্যদিকে, শিশুদের নিয়ে বেআইনিভাবে মিছিল করায় রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশন মোর্চা নেতা বিমল গুরুং ও অন্য নেতাদের আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কলকাতায় হাজির হতে বলেছে। তাঁরা সেখানে হাজির না হলে তাঁদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি নিলাম করার নির্দেশ জারি হতে পারে। জেলাশাসক জানিয়েছেন, শিশু সুরক্ষা কমিশনের নোটিশ তাঁরা বিমল গুরুঙ্গের কাছে পৌঁছে দিতে পারছেন না। কারণ, বিমল গুরুং গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। তবে সেই নোটিশ তাঁর অফিস সহ অন্যত্র টাঙিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার মিরিকে সর্বদলীয় বৈঠক হওয়ার পর একটি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছে। বুধবার এক জন মৃত মোর্চা সমর্থকের দেহ নিয়ে দার্জিলিং-এ বের হয় মিছিল। আগুন নেভাতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন দমকল কর্মীরা। প্রায় প্রতিদিনই অফিস শেষ হওয়ার পর প্রত্যন্ত এলাকায় কোথাও আগুন দেওয়া হচ্ছে। এমন সব জায়গায় আগুন দেওয়া হচ্ছে যেখানে দমকল গাড়ি পৌছাতে পারছে না বলে জেলাশাসক জানিয়েছেন।
