শান্তিনিকেতনের অলিখিত অতীত এবার সংরক্ষিত হচ্ছে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে

প্রবীণরা শোনাচ্ছেন তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা

শান্তিনিকেতনে বিশ্ব সংস্কৃতির মিলনস্থল বিশ্বভারতী স্থাপন করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সেই প্রতিষ্ঠান এখন কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। শান্তিনিকেতনের বিবর্তন, ইতিহাস, পুরোনো দিনের ছোটো-বড়ো অভিজ্ঞতা – সেসব নিয়ে প্রবীণদের বলা কথা অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে রাখছে বিশ্বভারতী। 

শান্তিনিকেতনের অলিখিত ইতিহাস খোঁজার এই উদ্যোগের নাম ‘শ্রুতি ইতিহাস প্রকল্প’। আশ্রমের আদিকাল নিয়ে বলা সেকালের বিশিষ্টজনদের মুখের কথা ধরে রাখা হচ্ছে অত্যাধুনিক অডিও-ভিজ্যুয়াল পদ্ধতি ব্যবহার করে। গত এক বছরে বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর উদ্যোগে এবং রবীন্দ্রভবনের তত্ত্বাবধানে ২৬ জনের স্মৃতিকথা সংরক্ষণ করা হয়েছে। বেশিরভাগ সাক্ষাৎকারই নেওয়া হয়েছে উদয়ন বাড়িতে। শিল্পী যোগেন চৌধুরীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রবীন্দ্র ভবনের প্রাধিকারিক নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। বৌদ্ধশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ও বিশ্বভারতীর পুরোনো যুগের অধ্যাপক সুনীতি পাঠকের সঙ্গে কথা বলেছেন রবীন্দ্র ভবনের অধ্যক্ষ অমল পাল। স্পেনের খোসে পাশ, জার্মানির মার্টিন ক্যামশেন তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, কীভাবে শান্তিনিকেতন ধীরে ধীরে পাল্টে গেল, তার স্মৃতি ব্যক্ত করেছেন।

এই সব সাক্ষাৎকার অমূল্য ইতিহাস হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে, যা গবেষকদেরও কাজে লাগবে। বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর বিশ্বজিৎ রায় আমাদের বললেন, “এখন মৌখিক ইতিহাস নিয়ে গবেষণা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। শান্তিনিকেতনের অলিখিত ইতিহাস ধরে রাখার যে উদ্যোগ বিশ্বভারতী নিয়েছে, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর আগেই প্রবীণদের স্মৃতিচারণ বই আকারে সংরক্ষিত হয়েছে। তবে বইয়ের থেকে অডিও-ভিডিও অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছয়। বিশ্বভারতের অতীতকে যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, ততই ভালো”। 
 

Developed by DXDasia