
সম্পর্কে জগদীশচন্দ্র বসুর নাতনিও তিনি
পুরনো দিনের কাঠের বাড়ি আর খুব একটা নেই শিলিগুড়ি শহরে। সব ভেঙেচুরে কংক্রিটের বাড়ি তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যেই নিজেদের পুরনো কাঠের বাড়িতে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর একটি অটোগ্রাফ যত্নে রেখেছেন বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুর নাতনি মহাশ্বেতা মহলানবিশ। শিলিগুড়ি মাল্লাগুড়িতে তাই মহাশ্বেতা দেবীকে নিয়ে উৎসাহের শেষ নেই। স্বাধীনতা দিবসের আগে এই উৎসাহ আরও বেড়ে যায় প্রতি বছর। এবারেও তাতে খামতি নেই। আর মহাশ্বেতা দেবী আগস্ট মাস পড়তেই নেতাজীর সেই বাঁধানো অটোগ্রাফ ট্রাঙ্ক থেকে বের করে এনেছেন। শিলিগুড়িতে নেতাজী স্মৃতিবিজড়িত হারমোনিয়াম নিয়ে বেঁচে থাকা সুশ্বেতা বসু ও সঙ্গীতশিল্পী শিল্পী পালিত বলেন, তাঁরা স্বাধীনতা দিবস স্মরণে মহাশ্বেতা মহলানবিশকে নিয়ে বিশেষ কিছু অনুষ্ঠানের কথা ভাবছেন।

কী আছে সেই অটোগ্রাফে? তাতে লেখা, ‘সেবা ও ত্যাগ ব্যতীত স্বাধীনতা পাব না।’ স্বাক্ষর করা আছে ‘শ্রী সুভাষচন্দ্র বসু’। তারিখ ১৯-৯-১৯৩৮। কিন্তু কীভাবে নেতাজীর হাতে লেখা এই অটোগ্রাফ মহাশ্বেতা দেবীর কাছে এল? মহাশ্বেতা দেবীর বক্তব্য, তিনি এটা তাঁর মা প্রয়াত মমতা মহলানবিশের কাছ থেকে পেয়েছেন। তাঁর মাসি প্রয়াত স্বাধীনতা সংগ্রামী অনিতা বসু ওরফে চৌধুরী তাঁর মাকে এটা দিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর দাদু মানে অনিতা বসুর বাবা ক্ষিতীশচন্দ্র বসু রেঙ্গুনে আইন অনুশীলন করতেন। মাসি সেখানেই থাকতেন আর নেতাজীর ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে গোপনে ভারতের স্বাধীনতার জন্য কাজ করতেন। ১৯৩৮ সালে নেতাজী রেঙ্গুনে গেলে অনিতা দেবী তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। তখনই নেতাজী সেই বাণী সহ অটোগ্রাফ দেন।
বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুর নাতনি মহাশ্বেতা দেবী। এখন তাঁর বয়স ষাট বছর। জগদীশচন্দ্র বসুর খুড়তুতো ভাই ক্ষিতীশচন্দ্র বসুর মেয়ে হলেন মহশ্বেতাদেবীর মা মমতা মহলানবিশ। জগদীশচন্দ্র বসুর বাবা ভগবানচন্দ্র বসু আর মমতাদেবীর ঠাকুরদা ঈশ্বরচন্দ্র বসু ছিলেন আপন ভাই। এখন মহাশ্বেতা দেবী যে বাড়িতে রয়েছেন সেটি ১৯৫৪ সালে শিলিগুড়ি গভর্নমেন্টস মিল থেকে নিলাম করে আনা কাঠ দিয়ে তৈরি। তাঁর বাবা প্রয়াত নৃপেন্দ্রনাথ মহলানবিশ মাত্র তিন হাজার টাকা দিয়ে সব কাঠ নিলাম করে এনে এই বাড়ি তৈরি করেন।
