
নীতীশের পদত্যাগ, মোদীর অভিনন্দন
অনেকগুলো পথ খোলা রেখে পদত্যাগ করলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। একই সঙ্গে তিনি যে দেশের একমাত্র দুর্নীতির অভিযোগমুক্ত নেতা, সেই ‘সাইনবোর্ড’ ফের মাথার উপরে তুলে ধরলেন এই পদত্যাগের মধ্যে দিয়ে। বুধবার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিলেন তিনি। শুক্রবার বিহার বিধানসভার অধিবেশন শুরু হচ্ছে। দুর্নীতিতে অভিযুক্ত রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বী যাদবের ইস্তফা নিয়ে সোচ্চার হবেন বিরোধীরা, এটা জানাই ছিল। আর তার জেরে নীতীশকেও বিড়ম্বনায় পড়তে হত। সেই অবস্থায় পড়ার আগেই সরে গেলেন নীতীশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অভিনন্দন জানিয়েছেন নীতীশ কুমারকে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে নীতীশের লড়াইয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। নীতীশ বলেছেন, তিনি পদত্যাগ করেছেন অন্তরাত্মার ডাকে। ফোন করেছিলেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এবং অন্যান্য বিজেপি নেতারা।
রাজভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নীতীশ বলেন, ‘টানা ২০ মাস ধরে আমি মহাজোটের সরকার চালিয়েছি। যতটা সম্ভব জোটধর্ম পালন করেছি। বিহারের মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। বিহারে সামাজিক পরিবর্তনের চেষ্টা করেছি। রাজ্যের কৃষি, বিজ্ঞানের উন্নতির চেষ্টা করেছি নিয়ত। ২০ মাসে বিহারের অনেক কাজ হয়েছে। কিন্তু যে পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি সেখানে আর সরকারের নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব নয়। আমি কারও ইস্তফা চাইনি। দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে বলেছিলাম। লালুজির সঙ্গে কথা বলেছি। সাধারণ মানুষের মধ্যে যে সব প্রশ্ন উঠেছে তার নিরসন হচ্ছিল না। ফলে আর কাজ করা যাচ্ছিল না।& গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যিনি নিজে এক সময় দুর্নীতিগ্রস্তদের বাঁচাতে আনা অধ্যাদেশ ছিঁড়ে ফেলেছিলেন, সেই রাহুল গান্ধীর কথা বলেছি।। কিন্তু কিছুই হচ্ছিল না। আমার সামনে তাই আর কোনও পথ খোলা ছিল না। অন্তরাত্মার ডাকে সাড়া দিয়ে পদত্যাগ করারই সিদ্ধান্ত নিলাম।’
নীতীশের ইস্তফার পরেই প্রধানমন্ত্রীর টুইট, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শামিল হওয়ার জন্য নীতীশ কুমারজি–কে অভিনন্দন। দ্বিতীয় টুইটে তিনি বলেছেন, দেশ, বিশেষ করে বিহারের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য রাজনৈতিক মতভেদের ঊর্ধ্বে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক হয়ে লড়াই করতে হবে। দিল্লিতে বৈঠকের পরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাডাডা জানান, বিজেপি বিহারে অন্তর্বর্তী নির্বাচন চায় না। তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারাই কেন্দ্রকে রাজ্যের ব্যাপারে রিপোর্ট দেবে। পাটনায় রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুশীল কুমার মোদিও জানিয়ে দেন, অন্তর্বর্তী নির্বাচনের কথা ভাবছে না রাজ্য বিজেপি।
লালুপ্রসাদ যাদব বলেছেন, বৃহত্তম দল হিসেবে তাঁর দল সরকার গঠনে আগ্রহী। যদিও এটা স্পষ্ট, এই কথার কোনও মূল্য নেই। সংখ্যাই বলে দিচ্ছে, শুধু কংগ্রেসের সমর্থনে আরজেডি-র সরকার হবে না। তাহলে কী করবেন নীতীশ? নীতীশ নির্বাচনের পথে গেলে সম্ভবত কালীপুজোর পর বা ডিসেম্বরে গুজরাটের সঙ্গে বিহারে ফের ভোট হবে। এবং নীতীশ যেহেতু একা লড়ে কিছুতেই বিহারে ক্ষমতায় আসতে পারবেন না, ফলে তিনি বিজেপির সঙ্গেই জোট বাঁধবেন বলে অনুমান। এছাড়া বিজেপির সমর্থন নিয়ে এখনই নতুন সরকার নীতীশের নেতৃত্বে শপথ নিতে পারে। বিজেপি বাইরে থেকে সমর্থন করবে, না সরকারে যোগ দেবে সেটা সময়ই বলবে। সুশীল মোদীর সঙ্গে ঘর করার অভিজ্ঞতা তো নীতীশের আছেই। আর একটা সম্ভাবনা, লালু তেজস্বীকে সরিয়ে নেবেন বলে কথা দিলেন, নীতীশও ফের আরজেডি-র সমর্থনে সরকার গড়লেন। তবে এমনটা হবে বলে মনে হয় না।
ক্ষতি বেশি বিরোধীদের। আগামী ছ’মাসে লালু-তেজস্বীকে নানা অভিযোগে সিবিআই-ইডি আরও জড়াবে।রাজনীতীর এই বড় খেলায়, নীতীশের অভাব বিরোধীদের কাছে বড় রকমের সংকট হিসেবেই উপস্থিত হল। অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে ২০১৯-এর প্রস্তাবিত মহাজোট।
