
দরিদ্র ছেলেমেয়েদের শিক্ষার জন্য এই টাকা দান করেছেন তিনি
মানুষ পরিব্রাজক। জীবনের অন্বেষণে ঘুরতে ঘুরতে কোথা থেকে কোথায় সে পৌঁছে যায় নিজেও জানে না। উৎস থেকে মোহনায় এসে সমুখে শান্তি পারাবার দেখে তার মনে পড়ে শেকড়ের কথা। শেকড়ের খোঁজে সে ফিরতে চায় স্মৃতি-বিস্মৃতির পথ বেয়ে তার প্রত্ন-ইতিহাসে। যে ইতিহাস চর্চা থেকে উঠে আসে প্রান্তিক জনপদের কাহিনি, সাম্প্রতিককালে যা সাবল্টার্ন ইতিহাস। সুবর্ণরেখা নদী তীরবর্তী, উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত, কত জনপদ, জনজীবন আর কত শত পরিবার। এমনই এক পরিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা, বিবর্ধিত ও আলোড়িত এক আশ্চর্য আখ্যান শুনিয়েছেন সাহিত্যিক নলিনী বেরা। তাঁর এই আশ্চর্য আখ্যানই এবারের আনন্দ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে।
একজন সাহিত্যিকের জীবন কি শেষ হয়ে যায় বইয়ের পৃষ্ঠায়? হয়তো না। এই সমাজটাকে বারবার প্রতিনিধিত্ব করেছেন শিল্পী-সাহিত্যিক-কবিরা। নলিনী বেরার কাছেও ঋণী হয়ে রইল সমগ্র বাংলা। কারণ আনন্দ পুরস্কারের দশ লক্ষ টাকা দরিদ্র ছেলেমেয়েদের শিক্ষার জন্য দান করলেন সাহিত্যিক নলিনী বেরা। নিজে বড়ো হয়েছেন প্রত্যন্ত গ্রামে। আর্থিক অনটনের সম্মুখীন হয়েছেন বারবার। এবার আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাঁড়ালেন তিনি। এর জন্য দরকার সততা। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। নলিনী বেরাকে কুর্নিশ জানাই আমরাও।
