নদীর চর দখল রুখতে দাওয়াই বনসৃজন

২০১৪ সাল থেকেই উত্তরবঙ্গে শুরু হয় এই কর্মসূচি

নদীভাঙন এবং নদীর চর দখল রুখতে উত্তরবঙ্গের নদীচরগুলোতে বনসৃজনে নেমেছে রাজ্যের সামাজিক বনসৃজন দপ্তর। এর জন্য জাপানের একটি সংস্থার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। চলতি অরণ্য সপ্তাহে রাজ্যের সমাজিক বনসৃজন দপ্তরের রেঞ্জ অফিসার সোনম ভুটিয়া জানান, শিলিগুড়ি মহকুমার পনেরোটি জায়গায় তাঁরা ১৭ জুলাই থেকে বিনামূল্যে গাছ বিলি করছেন। এবারে মোট ৭৫ হাজার গাছ বিলি করবেন তাঁরা। ফাসিদেওয়ার বলাইগছ গ্রাম দিয়ে তাঁদের বনমহোৎসব শুরু হয়। গত বছর ৬০ হাজার গাছ বিলি করেছিলেন। ঐসব গাছের মধ্যে ছিল টিক, শিমুল, জারুল, পেয়ারা সহ আরও অনেক গাছ। এবারেও গাছ বিলির অনেক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

এর মধ্যেই প্রচার করা হচ্ছে নদীর চর দখল এবং নদীর ভাঙন রুখতে বিশেষ কিছু বনসৃজনের। তিস্তা থেকে শুরু করে মহানন্দা, বালাসন, মেচি ও মূর্তি নদীর ধারে গত বছর ৬০ হেক্টর জমিতে গাছ লাগানো হয়েছে। চলতি বছরে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, মালবাজার মিলিয়ে ১০০ হেক্টর নদীপারের জমিতে গাছ লাগানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ বনসৃজন সম্পন্ন হয়েছে। মূলত ২০১৪ সাল থেকেই নদীভাঙন ও নদীচর দখল রুখতে উত্তরবঙ্গে শুরু হয় এই নদীপারের বনসৃজন কর্মসূচি। প্রথম বছর ১২ হেক্টর জমিতে গাছ লাগানো হয়, তারপর তা বাড়তে থাকে। ২০১৫ সালে ৩৫ হেক্টর জমিতে গাছ লাগানো হয়। এর মধ্যে নদীচরে অনেক বেআইনি চা বাগান তুলে দিয়ে তাতে বনসৃজন হয়েছে বলেও জানিয়েছেন রেঞ্জ অফিসার। শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে বেআইনি চা বাগান তুলে দিয়ে বিভিন্ন গাছ লাগানো। এর জন্য বিভিন্ন স্থানে গ্রামবাসীদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এমনকী, নদীচরের জবরদখল রোখা ও ভাঙন ঠেকাতে অনেক স্থানে শুরু হয়েছে চাষবাসও।

Developed by DXDasia