ঘুঙুর-এর ঝুমুর ঝুমুর আওয়াজের কারণেই কি ‘ঝুমুর’ নামকরণ?

বঙ্গদর্শনের গ্যালারি। অভিজিৎ চক্রবর্তীর ১৩টি ফ্রেমের ছবিমহল…

“বাইনাচের আসরে মজা লিবার আছে/ লিবার আছে লিবার আছে হে/ ছিল্যা বুঢ়া আস্যো বোস্যো কাছে…”
 
ঝুমুর ও নাচনি নাচের শুরুটা যে ঠিক কবে কিংবা কোথায়, তার বিশ্বাসযোগ্য ইতিহাস আসলে আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

 ছোটোনাগপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বহু দিন থেকেই ভাবপ্রকাশের মাধ্যম ছিল ঝুমুর, যার কোনো পুর্ণাঙ্গ লিখিত রূপ ছিল না।
 পরম্পরাসূত্রে লোকগানের শরীরে ভর করে ডালপালা মেলেছে এই গান। ভিন্নমত রয়েছে ঝুমুর-এর নামকরণ নিয়েও।
 কলিভিত্তিক এই বিশেষ ধরনের সংগীতের সঙ্গে ঘুঙুর-এর ঝুমুর ঝুমুর আওয়াজের কারণেই কি এর ‘ঝুমুর’ নামকরণ? জানা নেই। তবে গানের সঙ্গে নাচের যোগাযোগের যেন একটা সূত্র পাওয়া যায়।
 
ঝুমুরের শ্রেণি তিনটি – দেহতাত্ত্বিক, ভাঁড়শালিয়া বা ভাদরিয়া এবং নাচনিশালিয়া। পরবর্তীতে এই নাচনিশালিয়া থেকেই উৎপত্তি বাইশালিয়ার।
 নাচনিরা আসলে একটা বিস্তীর্ণ অন্ধকারের মধ্যে কতগুলো হারিয়ে যাওয়া মুখ। তাঁদের কারোর সুযোগ হয়নি রাজাবাদশার স্নেহধন্যা হওয়ার কিংবা নাচগানের উপযুক্ত ঘরানার তালিম নেওয়ার।
 অভাবের তাড়নায় তাঁরা কিশোরী বয়স থেকেই ঘরছাড়া। ভরসা বলতে রসিকের সামান্য অনুগ্রহ আর ভালোবাসা।
 আনুমানিক ৬০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানভূম, ধলভূম, মল্লভূম, সিংভূম, বরাভূম, কেওনঝাড়, সরাইকেলা, ঝাড়গ্রাম, সাঁওতাল পরগনার বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে এই সাংস্কৃতিক চর্চার প্রভূত বিস্তৃতি ঘটলেও আজ পর্যন্ত এই লোকশিল্প কৌলিন্যের মর্যাদা পায়নি।
 যদিও এখন পশ্চিমবঙ্গ সরকার নাচনিদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যবস্থা করেছে। প্রতিমাসে নাচনিরা তাঁদের অনুষ্ঠানের জন্য পারিশ্রমিক এবং বৃত্তি পান রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে।
 তবু এখনও শরীরে নাচ আর কণ্ঠে ঝুমুর নিয়ে ওরা কি শুধুই এই রুখামাটির ভুখামানুষের আমোদ উপকরণ? সংস্কৃতির অচ্ছুতকন্যা?

চিত্রগ্রাহক অভিজিৎ চক্রবর্তী নাচনিদের নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজ করছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। সেই কাজেরই বাছাই করা কিছু ফটোগ্রাফি আজ ছবিমহলে।
 গ্যালারি ঘুরলেই দেখতে পাবেন ঘরছাড়া মানুষগুলোকে, শুনতে পাবেন অদৃশ্য একটা দ্রিমি তাল, ছুঁতে পারবেন রুখা মাটির কাঁকড়।
 অভিজিৎ চক্রবর্তী (চিত্রগ্রাহক)

Developed by DXDasia