গৌরবের স্মৃতি উস্কে ফিরছে বাংলার মসলিন

মসলিন প্রকল্পে বাড়ছে কারিগরদের সংখ্যা এবং আয়

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মসলিন প্রকল্পে আয় বাড়ছে। তারসঙ্গে বাড়ছে কারিগরের সংখ্যাও। শুক্রবার খাদিমেলার উদ্বোধনে বক্তাদের কথায় সেটাই জানা গেল। আগামী ২ জানুয়ারি পর্যন্ত এই মেলা চলবে। 

এক সময় মসলিন ছিল বাংলার গর্ব। সাড়া পৃথিবীতে বাংলার মসলিনের ব্যাপক চাহিদা ছিল। তারপর ব্রিটিশ শাসকরা পরিকল্পিতভাবে বাংলার তাঁতশিল্প প্রায় ধ্বংস করে দেয়। পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে মসলিনের গৌরব ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি কারিগররা যাতে ভালো মুনাফা পান এবং তাঁদের দক্ষতা যাতে দেশে-বিদেশে প্রশংসীত হয়, সেই উদ্দেশ্য নিয়ে চালু হয় ‘প্রোজেক্ট মসলিন’। এখনও অবধি রাজ্যের ৯টি জেলায় মোট ২১টি সাধারণ উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, দুই মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, কালিম্পং, বাঁকুড়া, বীরভূম, বর্ধমান, হাওড়া, মালদহ ও নদীয়া জেলায় ক্লাস্টার হয়েছে মোট ৬৩টি। মোট ৩৯ হাজার ৫৮৩ জন শিল্পী কাজ করছেন এর অধীনে। স্বাভাবিকভাবেই এই খবরে মসলিন কারিগররা এবং তাঁদের পরিবারগুলি যথেষ্ঠ খুশি। যাঁরা বাংলার ঐতিহ্য নিয়ে চর্চা করেন তাঁরাও মসলিন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ভারতে তৈরি মোট মসলিনের প্রায় ৫৫ শতাংশের বেশি উৎপন্ন হয়। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে পুনরুজ্জীবিত প্যাকের মাধ্যমে মসলিন খাদির উৎপাদন নতুন করে বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সাউথ সিটি, কোয়েস্ট ও স্টার মলে খোলা হয়েছে মসলিনের তিনটি বিপণন কেন্দ্র। ঢাকুরিয়ার দক্ষিণাপণে ‘ক্লাব মসলিন’-এরও উদ্বোধনও করা হয়েছে। এইভাবেই ক্রমশ বিক্রি ও প্রচার বাড়ছে মসলিনের। 

Developed by DXDasia