বিদেশি নাটকের একাধিপত্য থেকে বাংলা থিয়েটারকে মুক্ত করলেন যিনি

আজ মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী

সিনেমার চিত্রনাট্য যদি সাহিত্য না হয়, তাহলে নাটক কেন টেক্সট হিসেবে সাহিত্য বলে গণ্য হবে? এরকমই প্রশ্ন তুলেছিলেন বাংলা থিয়েটারের কিংবদন্তী ব্যক্তিত্ব মোহিত চট্টোপাধ্যায়। এমন কথা যিনি বলেছিলেন, তাঁর লেখা নাটক এবং চিত্রনাট্যগুলিও যে সাহিত্যগুণে অনন্য, কাব্যিক পেলবতায় মধুর, সে কথা রসজ্ঞজনেরা অস্বীকার করতে পারেননি। আজ সেই মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী। 

সাহিত্য নিয়ে সিটি কলেজে পড়াশোনার সময়েই তরুণ কবি হিসেবে সারা ফেলেছিলেন মোহিত চট্টোপাধ্যায়। কর্মজীবনে প্রবেশ করার পর ঝুঁকে পড়লেন নাটকের দিকে, তারপর কবিতার বদলে নাটকই হয়ে উঠল তাঁর ভাবপ্রকাশের স্বচ্ছন্দ হাতিয়ার। অ্যাবসার্ড নাটকের ধারায় এক নতুন মাত্রা যোগ করলেন। বহু পূর্ণাঙ্গ নাটক, অনেকগুলো একাঙ্কিকার পাশাপাশি ছিলেন টিভি ধারাবাহিক এবং চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচনাতেও সিদ্ধহস্ত। ‘রাজরক্ত’, ‘মৃচ্ছকটিক’, ‘মহাকালীর বাচ্চা’, ‘গ্যালিলিওর জীবন’, ‘অক্টোপাশ লিমিটেড’, ‘জোছনাকুমারি’, ‘মুষ্টিযোগ’, ‘হারুন উল রশিদ’-এর মতো নাটক, ‘পরশুরাম’, ‘ওকা উরি কথা’, ‘জেনেসিস’-এর মতো চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট তারই সৃষ্টি। 

তিনি নাটকের জগতে আসার আগে বাংলা থিয়েটারে মৌলিক নাটকের মঞ্চায়ন খুব কম হত। বেশিরভাগই ছিল বিদেশি নাটকের ভাবানুবাদ। প্রচুর মঞ্চসফল মৌলিক নাটক লিখে বাংলা থিয়েটারকে বিদেশি নাটকের ওপর নির্ভরতা থেকে বের করে আনলেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যে মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রথম সারিতেই থাকবে। 
 

Developed by DXDasia