মদের বোতল দিয়ে জগন্নাথমূর্তি

এমন আরও অনেক শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন ৬৫ বছরের এই বৃদ্ধা

ফেলে দেওয়া মদের বোতল দিয়ে অন্যরকম শিল্পকর্ম। তার সঙ্গে পুজো আসছে সামনে। ফেলে দেওয়া বিভিন্ন পত্রিকা আর কুলো দিয়ে শারদ বন্দনার আগমনীর ওপর কোলাজ তৈরিতে নেমেছেন বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী বাপি লাহিড়ীর দিদি রত্না ব্যানার্জি।

রত্নাদেবীর মাসির ছেলে বাপি লাহিড়ী। শিলিগুড়ি কলেজপাড়ার ফ্ল্যাটে থাকেন রত্নাদেবী। তাঁর ঘর ভরে আছে নানান হস্তশিল্পের কাজে। ফ্ল্যাটের কাছে রাস্তার ধারে প্রায়ই খালি মদের বোতল দেখতে পান রত্নাদেবী। আর সেই সব ফেলে দেওয়া বোতল দিয়েই নতুন সৃজন ভাবনায় মেতেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই পরিত্যক্ত মদের বোতল দিয়ে তিনি জগ্ননাথ-বলরাম-সুভদ্রা বানিয়েছেন। রোজ সন্ধ্যায় তাতে ধূপও দেন। আবার মদের বোতল দিয়েই তৈরি করা লক্ষ্মী পেঁচা তাঁর ঘরে শোভা পাচ্ছে। এমন আরও অনেক শিল্পকর্মের মালিক ৬৫ বছরের এই বৃদ্ধা। শান্তিনিকেতন থেকে তিনি সত্তরের দশকে ইতিহাসে অনার্স নিয়ে এম এ পাশ করেছেন। সেখানে কলা বিভাগে বাটিক, বাধনি, কাঁথা স্টিচ সহ আরও অনেক কিছু হাতের কাজ শেখেন। তারপর হাতের কাজকে রীতিমতো নেশার পর্যায়ে নিয়ে যান। তুলি দিয়ে দেওয়ালে ছবি এঁকে ফ্যামিলি ট্রি তৈরি করেছেন। তাতে তাঁদের পরিবারের চতুর্থ প্রজন্ম পর্যন্ত সকলের ছবি দেওয়া আছে। তাঁর কথায়, এটাও একটা ব্যতিক্রমী কাজ।

রত্নাদেবীর ছেলে নিউজিল্যান্ডে থাকেন। সেখানে তিনি ২০০৭ সালে গিয়েছিলেন। সেই সময় পৃথিবীর পনেরোটি দেশের হাতে তৈরি শিল্পকর্মের ওপর প্রদর্শনী হয়। তাতে ভারত থেকে রত্নাদেবী সহ আরও একজন অংশ নিয়ে সকলের নজর কাড়েন। ফেব্রিক পেইন্টিং নিয়ে তিনি সেখানে অনেক কাজ মেলে ধরেন। তা অনেকের প্রশংসা কুড়োয়। জাপান, চিন সহ আরও অনেক দেশের শিল্পীরা তাতে অংশ নেন। রত্নাদেবী এখন বিভিন্ন পত্রিকার জন্য পুজোর লেখালেখির পাশাপাশি আগমনী নিয়ে কোলাজ তৈরিতে ব্যস্ত। ফেলে দেওয়া পত্রিকা, পুরানো কুলো দিয়ে তিনি নানারকম পুজোর কাজ করছেন।

Developed by DXDasia